মুকসুদপুরে জমি বিরোধ ও রেস্টুরেন্ট স্থাপন নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

0
3

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের জোয়ারিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও “রিজিক হাইওয়ে ইন চাইনিজ এন্ড বাংলা রেস্টুরেন্ট স্থাপনে বাধা” বিষয়ক বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে শুত্রুবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় মুকসুদপুর প্রেসক্লাব কার্যালয় ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম শেখ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে সিরাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ তারা তাদের বৈধ মালিকানাধীন জমি পূর্ব পাশে ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দিগনগর গ্রামের আবু জাফর মুন্সী একই জমির পশ্চিম পাশে ভোগ দখল করেছেন।

সিরাজ শেখ বক্তব্য বলেন, আমি চাকুরির কারণে ঢাকায় থাকায় কয়েকমাস আগে আবু জাফর মুন্সী ও তার ছেলে সেতু মুন্সী আমাদেরকে কিছুই না জানিয়ে আমাদের ভোগ দখলকৃত পূর্বপাশে “রিজিক হাইওয়ে ইন চাইনিজ এন্ড বাংলা রেস্টুরেন্ট” নামে একটি স্থাপনা কাজ শুরু করেন।

আমি জানতে পেরে বাড়ীতে এসে বাধা দিলে তিনি আমাদের বাধাকে উপেক্ষা করে কাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সিরাজ শেক বাদী হয়ে আবু জাফর মুন্সী ও তার ছেলে সেতু মুন্সীর নামে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, গোপালগঞ্জ এ ১৫-০৩-২০২৬ তারিখে ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ১১৫/২৬।

ভুক্তভোগী সিরাজ শেক আরো বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষে সিরাজুল ইসলাম শেখ তার ভাই মিজানুর রহমান শেখ এবং বৃদ্ধ পিতা ফজলু শেখকে আসামী করে আমলী আদালত,মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ এ আবু জাফর মুন্সী ১৩-০৪-২০২৬ইং তারিখে একটি মামলা দায়ের করেন।

যার মামলা নং সিআর মুক:১৯৪/২৬। এরপর গত ১৩ এপ্রিল- ২০২৬ “রিজিক রেস্টুরেন্ট স্থাপনা চাদা দাবি,কাজে বাধা ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা” শিরোনামে বিএনটিভি ও দেশকাল সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের বলেন,যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন,উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর।

উক্ত সংবাদ আমাদের পরিবারকে জড়িয়ে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। যা আমাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছে এবং জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, বাস্তব সত্য হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আমাদের বৈধ মালিকানাধীন, রেকর্ডীয় ও দলিলভুক্ত জমির উপর অন্যায় ও অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

একইসঙ্গে সড়ক ও জনপদ বিভাগের মহা সড়কের চলাচল নিরাপত্তা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এ বিষয়ে আদালত ও প্রশাসনিক পর্যায় বিষয়টি বিচারধীন থাকা সত্ত্বেও আইন,বিধিবিধান ও প্রশাসনিক নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাতের অন্ধকারে নির্মাণ কাজ পরিচালনার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নিজেদের অবৈধ কর্মকান্ড আড়াল করার উদ্দেশ্যে আমাকে, আমার ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ পিতাকে এবং আমার ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আমরা এই ধরনের অপপ্রচার ও মিথ্যা মামলা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম শেখ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

আবু বক্কার
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.