বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে স্বরবৃত্তের ‘সময় ও জলের কাব্য’ অনুষ্ঠিত

0
2

কবিতা সবসময় সময়কে ধারণ করে, বলে যায় মানুষের কথা, মহাকালের কথা। আর সেই কথকতার অমলিন ডোর ধরে ঢাকার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বরবৃত্ত’-এর বিশেষ আলেখ্য ‘সময় ও জলের কাব্য’।

​২৯ আগস্ট ২০২৬ (শনিবার) বর্ষার শেষে শরতের এক মনোরম সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামোটরস্থ বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত হয় এই আবৃত্তি সন্ধ্যা।

সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বরবৃত্তের সভাপতি মো. আকতার হোসেন উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

​কবিতায় কবিতায় আবৃত্তিশিল্পীরা পরিবেশন করেন আনন্দ-বেদনা, উত্থান-পতন, আশা-আকাঙ্ক্ষা আর নতুন করে বাঁচতে শেখার গান। জলের পুষ্টি আর সময়ের শুশ্রূষায় জীবনকে অমিত সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা ফুটে ওঠে সম্পূর্ণ পরিবেশনায়।

​অনুষ্ঠানে একে একে আবৃত্তি পরিবেশন করেন স্বরবৃত্তের আবৃত্তিশিল্পী জান্নাতুল ফেরদৌস রীমা, মনোজ দত্ত, শিউলি রানী বালা, মরিয়ম আক্তার ঝর্ণা, কামরুন নাহার বাবলি, খন্দকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সুসমিতা হক, মো. আকতার হোসেন, মাহানুর জাবিন শারমিন এবং মোর্তাহিন বিল্লাহ তোহা।

​অনুষ্ঠানে একে একে মোট ২২টি কবিতা আবৃত্তি করা হয়। সূচনাতেই জান্নাতুল ফেরদৌস রীমা আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ এবং পরবর্তীতে জীবনানন্দ দাশের ‘কুড়ি বছর পরে’। কবি মনোজ দত্ত আবৃত্তি করেন তাঁর স্বরচিত কবিতা ‘ঘুড়ি’ এবং অমিয় চক্রবর্তীর ‘বৃষ্টি’।

শিউলি রানী বালা পাঠ করেন তাঁর নিজের কবিতা ‘চিঠি’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আষাঢ়’ ও মহাদেব সাহার ‘মানুষই মহৎ শিল্প’ আবৃত্তি করেন মরিয়ম আক্তার ঝর্ণা। আহসান হাবীবের ‘আমি কোন আগন্তুক নই’ ও শামসুর রাহমানের ‘শহীদ জননীকে নিবেদিত পংক্তিমালা’ শোনান খন্দকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘বৈশাখের নাগর দোলায়’ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বর্ষার দিনে’ পরিবেশন করেন কামরুন নাহার বাবলি।

মল্লিকা সেনগুপ্তের ‘শুভম তোমাকে’ ও আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘শেফালির ফুল’ আবৃত্তি করেন সুস্মিতা হক। আকতার হোসেন এককভাবে পরিবেশন করেন মহাদেব সাহার ‘মন ভাল নেই’ এবং সৈয়দ শামসুল হকের ‘নূরলদীনের সারাজীবন’।

এর পাশাপাশি শিউলি রানী বালাকে সাথে নিয়ে আকতার হোসেন যৌথভাবে উপস্থাপন করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘যা চেয়েছি, যা পাবো না’।

​মাহানুর জাবিন শারমিন এককভাবে আবৃত্তি করেন জয় গোস্বামীর ‘মেঘবালিকার জন্য রুপকথা’ ও মহাদেব সাহার ‘মানুষের সাথে থাকো’। অন্যদিকে মোর্তাহিন বিল্লাহ তোহা শোনান হেলাল হাফিজের ‘ইচ্ছে ছিল’ এবং আবুল হাসানের ‘বৃষ্টি চিহ্নিত ভালবাসা’।

এছাড়া মাহানুর জাবিন শারমিন ও মোর্তাহিন বিল্লাহ তোহা যৌথ কণ্ঠে পরিবেশন করেন জয় গোস্বামীর ‘কথোপকথন ১৩’ ও আতাউর রহমানের ‘বর্তমানতা’। সম্পূর্ণ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে কোরাসের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলামের ‘বাঙলাদেশ’ কবিতার সমবেত আবৃত্তির মধ্য দিয়ে।

​সমগ্র অনুষ্ঠানটির সাবলীল সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মাহানুর জাবিন শারমিন। দৃষ্টিনন্দন মঞ্চসজ্জা করেন খন্দকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং চমৎকার গ্রন্থনা ও নির্দেশনার কাজ পরিচালনা করেন সুসমিতা হক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.