পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে হত্যা

0
0
পাহাড়ি জঙ্গল
পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে হত্যা

নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে। সেখানে ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে অপ্রতিমকে। এরপর নিথর দেহ ফেলে রেখে আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এ ঘটনায় দুই কিশোরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন সানন্দা এলাকার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকার ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোর। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আগে কোনো পুলিশ রেকর্ড (পিসিপিআর) নেই। এ ছাড়া ১৯ বছরের আরেক তরুণকে আটক করে তাঁর সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিম নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে যায়। অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার আগেই প্রযুক্তির সহায়তায় তুহিনকে নজরদারিতে এনে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একটানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তুহিন স্বীকার করে যে অপ্রতিমের আইফোনটি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে কৌশলে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই পরিকল্পনায় তার সঙ্গে ফাহাদ ও কামরুল সরাসরি জড়িত ছিল। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে এবং পরে ফাহাদের তথ্যে কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার গহিন জঙ্গলে অপ্রতিমের ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপ্রতিম শক্তভাবে বাধা দিলে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের ভারী লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা আইফোনটি নিয়ে সেখান থেকে সটকে পড়ে।

ফোন উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তুহিন প্রথমে তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। তার বিভ্রান্তিকর তথ্যে তিনটি ভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও ফোন পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে সত্য স্বীকার করে এবং তার নিজ বাড়ি থেকেই ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রধান তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও মদত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে। আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার মতো অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারও যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, সে বিষয়ে আদালতে বিশেষ আবেদন জানানো হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.