১২০ প্রতীক চূড়ান্ত, নৌকা’ প্রতীক স্থগিত

0
1
১২০ প্রতীক
১২০ প্রতীক চূড়ান্ত, নৌকা’ প্রতীক স্থগিত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই সংশোধনীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতীক ‘নৌকা’ স্থগিত রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচনি প্রতীকের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে ‘না’ প্রতীক, যা একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ইসির জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯৪ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮-এর বিধি ৯-এর উপবিধি (১) সংশোধন করা হয়েছে।

সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক ছাড়া ইসির নির্ধারিত অন্য যেকোনো প্রতীক প্রার্থিতা সাপেক্ষে বরাদ্দ দেওয়া যাবে। কমিশনের তৈরি তালিকার প্রতীকের পাশপাশি ‘নৌকা’ প্রতীকের পাশে ‘স্থগিত’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শুধু প্রতীক স্থগিত বা সংযোজনই নয়, প্রার্থীর হলফনামা দাখিলের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীলদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক থেকে সরিয়ে ঐচ্ছিক করা হয়েছে। ফলে প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের আয়কর রিটার্নসংক্রান্ত তথ্য না দিলেও তা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। এর পাশাপাশি ৩(গ) অনুচ্ছেদে ‘অভিযুক্ত’ শব্দের ব্যাখ্যা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বলতে কেবল সেই আসামিকে বোঝাবে, যার বিরুদ্ধে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ বা চার্জ গঠন করেছেন।

ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত প্রার্থীদের জামিন সংক্রান্ত কাগজের ক্ষেত্রেও বিধিমালা শিথিল করা হয়েছে। আগে প্রার্থীরা জামিনে মুক্ত থাকলে আদালত থেকে জামিনের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল, যা সংশোধনের মাধ্যমে সহজ করা হয়েছে। অপরদিকে, যারা কারাগারে অবস্থান করছেন, সেসব প্রার্থী গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যায়িত করে জমা দিতে পারবেন।

এ ছাড়া প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সংশোধনী এনেছে কমিশন। তফসিল-১-এর ফরম-১-এর তৃতীয় অংশে থাকা ‘মনোনীত প্রার্থী কর্তৃক ঘোষণা’র জায়গায় নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রার্থীর নিজস্ব অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি তাঁর মনোনীত নির্বাচনি এজেন্টের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসব সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রযোজ্য হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.