গলা এবং স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত মার্টিনা নাভরাতিলোভা

0
41
গলা এবং স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত মার্টিনা নাভরাতিলোভা
গলা এবং স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত মার্টিনা নাভরাতিলোভা

“আমার শরীরে যা কিছু রয়েছে তার সাথে আমি লড়াই করবো “। গলা এবং স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পরে একথা জানিয়েছেন মার্টিনা নাভরাতিলোভা। ৬৬ বছর বয়সী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই টেনিস খেলোয়াড়দের এর আগে ২০১০ সালে প্রাথমিক পর্যায়ের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

তবে চিকিৎসা করানোর পর তখন থেকে তিনি ক্যান্সারমুক্ত ছিলেন। তবে ফের একবার তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছে এই মারণ রোগ। হার না মেনে নাভরাতিলোভা জানান -””এই ডাবল রোগ গুরুতর তবে আমি এখনো আশা ছাড়ছি না। আমি যা পেয়েছি তা নিয়ে লড়াই করব।”

মার্টিনা পরে টুইট করেছেন: “আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ এবং আমার কাজ এখনও শেষ হয়নি। ” বিশ্লেষক হিসেবে আসন্ন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের জন্য মেলবোর্নে যাওয়ার কথা ছিল নাভরাতিলোভার। সেই ট্রিপটি বাতিল করা হয়েছে। তবে তার প্রতিনিধি বলেছেন, বিশ্বের প্রাক্তন ১ নম্বর খেলোয়াড় দূর থেকে টেনিস চ্যানেলের কভারেজে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্টিনা নাভরাতিলোভা স্টেজ ওয়ান থ্রোট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। মার্টিনা এই মাসে তার চিকিৎসা শুরু করবেন। ক্যান্সারের ধরন হল এইচপিভি এবং এই বিশেষ প্রকারের ক্যান্সার সময়মতো চিকিত্সা করালে ভালো সাড়া দেয়।

ফোর্ট ওয়ার্থে WTA ফাইনালের সময় মার্টিনা তার ঘাড়ে একটি লিম্ফ নোড লক্ষ্য করেছিলেন। তখন তিনি বায়োপসি করান, জানা যায় স্টেজ ওয়ান গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত।

একই সময়ে যখন মার্টিনার গলার পরীক্ষা করা হচ্ছিল, তখন তার স্তনে একটি সন্দেহজনক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে ক্যান্সার হিসাবে ধরা পড়ে। যা গলার ক্যান্সারের সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন। এই উভয় ক্যান্সারই তাদের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে যার চিকিৎসা সম্ভব।

অসুস্থতার কারণে মার্টিনা টেনিস চ্যানেলের জন্য সশরীরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন কভার করবেনা না তবে জুম দ্বারা সময়ে সময়ে যোগদান করতে সক্ষম হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নাভরাতিলোভা তাঁর সময়কালে সবচেয়ে সফল নারী খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন।

তার ৫৯ টি গ্র্যান্ড-স্ল্যাম খেতাব রয়েছে, তার নয়টি উইম্বলডন একক চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা রয়েছে। ১৯৭৫ সালে তৎকালীন ১৮ বছর বয়সী নাভরাতিলোভা কমিউনিস্ট কো চেস্লোভাকিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, যদিও ২০০৮ সালে তিনি তার চেক নাগরিকত্ব ফিরে পান।

খেলাধুলা থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকে তিনি মানবাধিকার থেকে পরিবেশগত সমস্যা বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচক হয়ে উঠেছেন। নাভরাতিলোভা সমকামী খেলোয়াড়দের একজন যিনি প্রকাশ্যে সেকথা স্বীকার করেছিলেন।
সূত্র : দা গার্ডিয়ান