ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে শঙ্কা, ফিফার সিদ্ধান্ত কী?

0
1
আর্জেন্টিনা
ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে শঙ্কা, ফিফার সিদ্ধান্ত কী?

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনা। তবে ফাইনালে কি খেলতে পারবে আর্জেন্টিনা? এই নিয়ে সারা বিশ্বে শুরু হয়েছে আলোচনা। এখন সকলের মনে একটাই প্রশ্ন বিশ্বকাপের ফাইনাল আদৌ হবে তো?

কারণ ম্যাচ শেষে ফকল্যান্ড যুদ্ধ–সম্পর্কিত রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে ফিফা।

আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) এবং ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ফুটবল মাঠে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক বার্তা, স্লোগান, পতাকা কিংবা প্রতীক প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ফিফার নিয়মে, খেলোয়াড়রা মাঠে বা তাদের  পোশাক—এমনকি অন্তর্বাসেও—কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক বার্তাসংবলিত লেখা বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ধরনের আচরণ শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ফিফার।

এ বারের বিশ্বকাপের আগে স্বাধীনতাপূর্ব ইরানের পতাকা ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আইএফএবি ও ফিফা।

ফকল্যান্ড যুদ্ধও দু’দেশের রাজনৈতিক লড়াই। ফলে সেই ব্যানার ব্যবহার করে ফিফার নিয়ম ভেঙেছেন মেসিরা। নিয়মে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “কোনও ফুটবলার বা দল এই নিয়ম ভাঙলে প্রতিযোগিতার আয়োজক, আইএফএবি বা ফিফা সংশ্লিষ্ট ফুটবলার বা দলকে শাস্তি দিতে পারে।”

সেমিফাইনাল চলাকালীন আর্জেন্টিনার ফুটবলার জিয়োভানি লো সেলসোর হাতে একটি ব্যানার দেখা যায়। তাতে লেখা, ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস।’ স্প্যানিশে এই কথার বাংলা অর্থ, ‘মালভিনাস আমাদেরই।’ ফকল্যান্ড দ্বীপকে মালভিনাস বলে ডাকেন আর্জেন্টিনার বাসিন্দারা। অর্থাৎ, ম্যাচের মধ্যে তাঁরা স্লোগান তোলেন যে, ফকল্যান্ড দ্বীপ তাঁদেরই।

খেলা শেষে নিকোলাস ওটামেন্ডি ও লো সেলসো সেই ব্যানার তুলে ধরেন। আর্জেন্টিনার বাকি ফুটবলারেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হাতেও ছিল একই ব্যানার। অর্থাৎ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেই ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি আরও এক বার উস্কে দেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। সেই ব্যানার হাতেই উল্লাস করেন তাঁরা।

ফকল্যান্ড যুদ্ধঃ

এটা ছিল ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের (ব্রিটেন) মধ্যে সংঘটিত একটি স্বল্পমেয়াদি কিন্তু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। এই যুদ্ধের মূল কারণ ছিল দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার ভাষায় Islas Malvinas)-এর মালিকানা নিয়ে বিরোধ।

যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিলো ২ এপ্রিল ১৯৮২ এবং শেষ হয়েছিলো ১৪ জুন ১৯৮২ রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধ  প্রায় ৭৪ দিন স্থায়ী হয়েছিল। আর্জেন্টিনা দাবি করে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ তাদের ভূখণ্ডের অংশ এবং এটি ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটেন দখল করে।

অন্যদিকে, ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং দ্বীপবাসীদের অধিকাংশই ব্রিটিশ শাসনের পক্ষেই মত দিয়েছে।

যুদ্ধের ফলাফলঃ 

ব্রিটেন সামরিকভাবে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।
যুদ্ধে আনুমানিক ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন, ২৫৫ জন ব্রিটিশ এবং ৩ জন ফকল্যান্ড দ্বীপবাসী নিহত হন।

বর্তমানে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এখনও যুক্তরাজ্যের অধীনস্থ একটি ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি। তবে আর্জেন্টিনা এখনো দ্বীপটির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি জানিয়ে আসছে। এ কারণে ফকল্যান্ড ইস্যু আজও দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.