
বাটিকামারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা শতবছরের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস নিয়ে আজও অবিচল। ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রথমেই আমি এই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্র এবং পরবর্তীতে আমি একজন শিক্ষক।
আমার দায় থেকে আজকে কয়েকটি বিষয়ে আমি একটু শেয়ার করতে চাই। আমি সকলের পছন্দের না হলেও, কারও কারোর কাছে কম অপছন্দের হতে পারি। সেই আস্থা কিছুটা হলেও আমার আছে। যাইহোক, একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড নির্ণয়ের সবথেকে বড় ব্যারোমিটার হলো তার ফলাফল।
সেদিক বিবেচনায় বাটিকামারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় জেলার একটি প্রথম শ্রেণির প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে যেমন অনেক বড় বড় সাফল্য আছে, আছে কিছু সীমাবদ্ধতাও। আর এই সীমাবদ্ধরার পেছনে অনেকগুলো নিয়ামকই দায়ী। শুধু শিক্ষক বা সরকার নয়।
এ বছর ২০২৬ সালে আমাদের প্রতিষ্ঠানের এস এস সি পাসের হার ৬৩.৯৬ শতাংশ এবং জিপিএ -৫ পেয়েছে ৩ জন। এই ফলাফলে আমি ও আমরা অনেক হতাশ। তবে খুব শীগ্রই এই অবস্থা থেকে আমরা কাটিয়ে উঠবো।
বিগত ২০১০ সালে ৯৩.৮১ শতাংশ, ২০১১ সালে ৯৬.৮৭ শতাংশ, ২০১২ সালে ৯৪.৭৮ শতাংশ এভাবে ১৩ তে ৭৫.১৬ শতাংশ ১৪ তে ৯৮.৬২ শতাংশ, ১৫ তে ৮৫.০৪ শতাংশ, ১৬ তে ৮৮. ০৮ শতাংশ, ১৭ তে ৮৮.৯৬ শতাংশ, ১৮ তে ৮৭.৭৬ শতাংশ ১৯ শে ৮৮.২৭ শতাংশ ২০ শে ৯০.৫১ শতাংশ ২১ শে ৯২. ৪৪ শতাংশ ২২শে ৯০.১৫ শতাংশ পাশ করে। এই ফলাফলগুলো বিগত নুরুল ইসলাম নাহিদ ও দিপুমনিদের আমলের।
আবার, আগের কিছু বছরের পাশের হার তুলে ধরছি, ১৯৯৯ সালে ৮১.১৭ শতাংশ, ২০০০ সালে ৪৫.৪৫ শতাংশ, ২০০১ সালে ৬৯.৮৯ শতাংশ, ২০০২ সালে ৫৬.৯৮ শতাংশ ২০০৩ সালে ৫৪.০৮ শতাংশ ২০০৪ সালে ৩৯.৭৭ শতাংশ ২০০৫ সালে ৬৮. ৩৫ শতাংশ পাশ করে।
আরো আগে ১৯৪৯ সালে ১৬ শতাংশ, ১৯৫০ সালে ২০ শতাংশ ১৯৫১ সালে ২৫ শতাংশ ১৯৫২ সালে ২৮ শতাংশ আবার ১৯৫৩ সালে শতভাগ পাশ করে।
প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ হার শতভাগ পাশ আর সর্বনিম্ন ১৬ শতাংশ।
এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী আগেও যেমন প্রতিবছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, এখনও পাচ্ছে, যার সংখ্যা কম নয় এবং বাংলাদেশের অনেক বড় বড় স্থানে দায়িত্ব পালন করছে। আরও ভালো কিছুর জন্য আপনাদের পর্যাপ্ত সাপোর্ট ও সহযোগীতা আমরা প্রত্যাশা করি আর চাই গঠনমূলক সমালোচনা।
এবার কিছু সমালোচনার আলোচনা :
কেউ একজন লিখেছেন এখনকার শিক্ষকরা কচু, ঘেচু পড়ান। আমি জানি সেও একজন শিক্ষক। তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই প্রতিষ্ঠানে আসতো, তাদেরকেও আমরা পড়িয়েছি। স্বয়ং তার মেয়ে জিপিএ ৫ পেয়ে এবং তার অগ্রজের তনয়া জিপিএ ৫ পেয়ে মেডিকেলে পড়তেছে। এই কচু আর ঘেচু পড়ানো শিক্ষকরাই তাদের পড়িয়েছেন।
একজন প্রাক্তন শিক্ষক বলেছেন, “স্যারেরা দামি দামি মোটরসাইকেল চালায়, কি আর পড়াবে?”
তাদের প্রত্যাশা এক শার্ট সাতদিন পরবে, হাতে লম্বা ছাতি, আর বাজার করতে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে তাকিয়ে থাকবে।
অন্ততপক্ষে, শিক্ষকদেরতো জানা উচিৎ, উপরের ছোড়া থুথু কোন দিকে যায়! কিছু হলেই একটা আমলের তুলনা তুল তুল করে বেরিয়ে আসে।
যাইহোক, আমি সেই আমলের একজন ছাত্র আর এই কচু আর ঘেচু আমলের একজন শিক্ষক। আমি এটা চরমভাবে বিশ্বাস করি কোন প্রিয় বস্তুর ক্ষয়ে যাওয়া বা তার বিন্দু পরিমাণ ক্ষতি হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বটে। তবে সেই প্রিয় বস্তুর সাফল্যের দিনগুলোতেও তারা কেন গর্তে লুকায়?
সর্বপরি, গঠনমূলক সমালোচনা কাম্য। আপনারা পাশে থাকলে এই প্রতিষ্ঠান একদিন আরো কাম্য ফলাফল বয়ে আনবে এবং এই প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের সভ্যতা বিনির্মাণ তরান্বিত হবে।
আমরা সবাই রক্তমাংসের মানুষ ভুল ত্রুটির উর্ধ্বে নই। তাই আমার তথ্য ও তত্ত্বের ত্রুটিগুলো আপনাদের মহানুভবতায় আপনাদের দয়ায় রাখলাম।
সকলের শারীরিক, মানসিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।


