কামরাঙ্গীচরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, নামবিহীন প্রতিষ্ঠান সিলগালা

0
3
টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক
টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসটিআই

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীচর এলাকায় পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একটি নামবিহীন প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

সোমবার (২৮ জুলাই ২০২৬) বিএসটিআইয়ের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সহায়তা করে এপিবিএন-১১। এ সময় বিএসটিআইয়ের প্রসিকিউটিং কর্মকর্তা আব্দুল কাদের, ফিল্ড অফিসার (সিএম) এবং ডিএমআই, বিএসটিআই, ঢাকার পরিদর্শক (মেট) নাফিম শাহরিয়ার হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

বিএসটিআই সূত্রে জানা যায়, কামরাঙ্গীচর থানাধীন ১৮৬, ব্যাটারি ঘাট, মেইন রোড, বড় মসজিদ এলাকায় অবস্থিত একটি নামবিহীন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি উপস্থিত না থাকায় মহাপরিচালকের ক্ষমতাবলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।

বিএসটিআই জানিয়েছে, ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে মানহীন ও অবৈধ পণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে বিএসটিআইয়ের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর এক গবেষণায় দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। গবেষণার ফলাফল প্রকাশের পর ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, পরীক্ষাপদ্ধতি, কাঁচা তথ্য (র-ডাটা) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি ইএসডিওর কাছে চাওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গবেষণা প্রতিবেদনে উত্থাপিত তথ্য যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর মান ও উপাদান পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টে ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি জোরদারের কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিএসটিআই বলেছে, পরীক্ষায় যদি প্রমাণিত হয় কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহার করেছে বা বাংলাদেশ মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো টুথপেস্ট বা ব্র্যান্ডকে অনিরাপদ ঘোষণা করা সমীচীন নয়।

সংস্থাটি আরও জানায়, টুথপেস্টের জন্য বিদ্যমান BDS 1216:2012 Specification for Toothpaste মানদণ্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়ে সরাসরি বিধিনিষেধ না থাকলেও উৎপাদনে অনুমোদিত ৮১টি উপাদানের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিক নেই। লাইসেন্স প্রদানের সময় উৎপাদনকারীদের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও যাচাই করা হয়। ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ সীমিত বলে বিএসটিআইর দাবি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ সীমা বা একক পরীক্ষাপদ্ধতি নির্ধারিত হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৫ সাল থেকে টুথপেস্টসহ কিছু প্রসাধনীতে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উৎপাদকদের ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের মানদণ্ডেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সীমা উল্লেখ নেই।

এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্ত চিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে টুথপেস্টের বাংলাদেশ মান পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসটিআই। পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মিললে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা এবং পরীক্ষাপদ্ধতি সংযোজনের মাধ্যমে মানদণ্ড হালনাগাদ করা হবে।

বিএসটিআই জনগণকে নিয়মিত মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, টুথপেস্ট গিলে না ফেলা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.