
কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে হারিয়ে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা। এরই সাথে দু’টি বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করার নজির গড়লেন লিয়োনেল মেসি। রেকর্ড ভাঙলেন পেলে এবং কিলিয়ান এমবাপের। এ বারের বিশ্বকাপে সাতটি গোল হয়ে গেল মেসির।
২৯ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করে মেসি। মাঝ মাঠ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ়ের দেওয়া পাস ধরে গোল করেন। বিশ্বকাপে ৩৯ বছরের ফুটবলারের মোট গোলের সংখ্যা বেড়ে হল ২০। গত কাতার বিশ্বকাপেও সাতটি গোল করেছিলেন মেসি। এ বারও সাত গোল হয়ে গেল তাঁর। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসাবে একাধিক বিশ্বকাপে সাতটি বা তার বেশি গোল করার নজির গড়লেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
টানা ১২০ মিনিট যেভাবে মাঠ কাপিয়ে খেলেছে কেপ ভার্দে তাতে কে বলবে এটি তাদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ।
ম্যাচের ১১১তম মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডটি যদি ডিফেন্ডার বোর্জেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে না জড়াত, তবে হয়তো ম্যাচের শেষ দৃশ্যটাই বদলে যেতে পারত। ৩–২ গোলের এই স্বস্তির জয় না এলে হয়তো শেষ ষোলোতে ওঠাই হতো না লিওনেল মেসির দলের।
প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে এনজো ফার্নান্দেজ ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেলেও ভোজিনিয়া দারুণ এক সেভে কেপ ভার্দেকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
৫৪ মিনিটে দেরয় দুয়ার্তের এক জোরালো শট আর্জেন্টাইন বাজপাখি এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ঠেকিয়ে না দিলে তখনই সমতায় ফিরত তারা। তবে সেই রক্ষা বেশি দীর্ঘ হয়নি; ঠিক ৫ মিনিট পর ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্দেসের নিখুঁত কাটব্যাক থেকে অত্যন্ত দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া শটে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে দেন সেই দুয়ার্তে (১-১)।
কিন্তু ৬২ মিনিটে এবং ৭২ মিনিটে মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করে আর্জেন্টিনার সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। শেষ দিকে মেসির আরও একটি ফ্রি-কিক এবং পারেদেসের দূরপাল্লার বুলেট শট ঠেকিয়ে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান এই গোলকিপার।
অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতেই দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে) আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের ফ্লিকে বল পেয়ে চমৎকার এক বাঁ পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস।
১০৩ মিনিটে বাম দিক থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের এক চোখধাঁধানো বাঁকানো শটে বল আর্জেন্টিনার জালে জড়িয়ে দেন সিডনি কাবরাল।
১১৬ মিনিটে কাবরালের নেওয়া দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক এমি মার্তিনেজ আঙুলের ডগায় ছুঁইয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। এরপর ১১৯ মিনিটে গিলসন বেঞ্চিমোলের একদম সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আরও একটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন এমি মার্তিনেজ।


