ঢাবিতে বৈশাখী শোভাযাত্রা সকাল ৯টায়, প্রবেশে জরুরি নির্দেশনা

0
1
বৈশাখী শোভাযাত্রা
ঢাবিতে বৈশাখী শোভাযাত্রা সকাল ৯টায়, প্রবেশে জরুরি নির্দেশনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যকে নিয়ে এ বছর চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে সকাল ৯টায় ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের করা হবে। সকাল ৮টা থেকে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলবে।

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউ-টার্ন নেবে।  সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শোভাযাত্রা শেষ হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সকাল ৮টা থেকেই শোভাযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হবে। চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট দিয়ে বের হয়ে শোভাযাত্রাটি শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউ-টার্ন নেবে। এরপর রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শেষ হবে।

শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আগ্রহীদের জন্য নির্দিষ্ট প্রবেশপথ রাখা হয়েছে, নীলক্ষেত ও পলাশী মোড় দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে হবে। শোভাযাত্রা চলাকালে অন্যান্য গেট ও আশপাশের সড়ক বন্ধ থাকবে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্ধারিত রুট ছাড়া অন্য কোথাও থেকে যুক্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখতেও বলা হয়েছে।

এবারের শোভাযাত্রায় লোকজ ঐতিহ্যের ধারায় পাঁচটি প্রতীকী মোটিফ থাকবে—মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া, ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’সহ দেশাত্মবোধক গান শোভাযাত্রাকে প্রাণবন্ত করবে। শোভাযাত্রায় ২০০ শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করবেন।

নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে। মুখোশ পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যাবে না এবং ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ। তবে, চারুকলায় তৈরি মুখোশ হাতে প্রদর্শন করা যাবে। ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন, ফেস্টুন, আতশবাজি ও ভুভুজেলা বাঁশি ব্যবহার ও বিক্রি থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

শোভাযাত্রা চলাকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের কয়েকটি গেট বন্ধ থাকবে। নববর্ষের দিন বিকাল ৫টার মধ্যে সব আয়োজন শেষ করতে হবে এবং এরপর ক্যাম্পাসে প্রবেশ বন্ধ থাকবে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর স্টিকারযুক্ত যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে না। নববর্ষের দিন সব ধরনের যানবাহন ও মোটরসাইকেল চলাচলও বন্ধ থাকবে।

নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে বসানো হচ্ছে। টিএসসি এলাকায় থাকবে হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে মোবাইল রাখা ও পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ১৩ এপ্রিল বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চারুকলার বকুলতলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে লোকসংগীত, নৃত্যসহ নানা পরিবেশনা থাকবে। এছাড়া, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ‘প্রত্যয় বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে ‘বাগদত্তা’ ও ‘দেবী সুলতানা’ শীর্ষক যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.