শিশু রামিসা হত্যায় সোহেল রানা ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

0
10
শিশু রামিসা
শিশু রামিসা হত্যায় সোহেল রানা ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবিতে শিশু রামিসা ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন।

আজ রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এজলাসে আসেন। এরপর তিনি মামলার রায় পড়া শুরু করেন। বিচারক বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে এই রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে মাত্র ১৯ দিনে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচারের নজির স্থাপিত হলো।

এর আগে গত বৃহস্পতির (৫ জুন) যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক আজ রায়ের দিন ঘোষণা করেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ সোহেল রানা ও স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করে আদালতে যুক্তিতর্ক শুনানিতে বলেন। অপরদিকে সোহেল রানা ও স্বপ্নার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ডের দাবি করেন।

আজ রায় উপলক্ষে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে করাগার থেকে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে হাজতখানায় রাখা হয়। পরে সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে বেলা ১০টা ৪৬ মিনিটের দিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানা থেকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়।

গত ২৪ মে মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপরে সিএমএম আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন।

পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে সোহেলের স্বীকারোক্তির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তবে একজন সাক্ষ্য দিতে আসেননি।

আসামি সোহেল রানা স্বীকারোক্তিতে বলেন, সাবলেটের অন্য সদস্যরা প্রতিদিন কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। ঘটনার দিন ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার শিশু রামিসাকে দেখতে পেয়ে তিনি তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে যান। সেখানে রামিসা চিৎকার শুরু করলে তিনি তার মুখ চেপে ধরেন এবং মুখে কাপড় গুঁজে দেন। এরপর তাকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তিনি তাকে মৃত মনে করেন। পরে অপরাধের আলামত নষ্ট করার উদ্দেশে একটি ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.