শিক্ষক-কর্মচারীকে টিকা দেওয়া সম্পূর্ণ হলেই খোলা হবে স্কুল-কলেজ

0
25
শিক্ষক-কর্মচারীকে টিকা দেওয়া সম্পূর্ণ হলেই খোলা হবে স্কুল-কলেজ
শিক্ষক-কর্মচারীকে টিকা দেওয়া সম্পূর্ণ হলেই খোলা হবে স্কুল-কলেজ

আগামী সেপ্টেম্বরেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে সরকার। সব শিক্ষক-কর্মচারীকে টিকা দেওয়া সম্পূর্ণ হলেই খোলা হবে স্কুল-কলেজ। গত প্রায় দেড় বছরে দফায় দফায় পেছানোর পর, করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে আগামী মাসেই স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। 

এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে একই সময়ে এবারের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সরাসরি ক্লাস শুরুর ব্যাপারটিও ভাবনায় থাকছে। তবে মধ্য নভেম্বরে ছোট পরিসরে এসএসসি এবং ডিসেম্বরের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে পুরোদমে স্কুল-কলেজও খুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে বুধবার (১১ আগস্ট)  মিন্টো রোডের বাসভবনে একান্ত আলাপচারিতায় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সাংবাদিকদের বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল-কলেজ খুলছে না। তবে সেপ্টেম্বরেই স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে সরকারের।  এছাড়া এখনই অটোপাসের চিন্তা নয়, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নভেম্বর -ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সুত্র থেকে জানা যায় , ‘বিশেষ করে গণটিকা কর্মসূচি শুরুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে টিকা নিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ শিক্ষকই টিকা নিয়ে নিয়েছেন।

এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশন করা প্রায় দুই লাখ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর বেশির ভাগই প্রথম ডোজ নিয়েছেন। এক-দেড় মাসের মধ্যে প্রায় সব শিক্ষার্থীরই দুই ডোজ টিকা নেওয়া শেষ হবে। আর এর মধ্যে করোনা সংক্রমণও কমে আসতে পারে।

আমরা আশা করছি, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে পারব। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।’

গত শনিবার শিক্ষা সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছিলেন, সরকারি পর্যায়ের প্রায় সব শিক্ষকই টিকা নিয়েছেন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন লাখ ৬৩ হাজার ২২২ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে টিকা নিয়েছেন দুই লাখ ৭৮ হাজার ৪২৬ জন।

বাকি আছেন প্রায় ৮৪ হাজার শিক্ষক। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষক টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তাঁদের মধ্যে টিকা নিয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি। আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই সব শিক্ষকই টিকা নিয়ে নেবেন আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানিয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক লাখ ৭৯ হাজার ২৬১ শিক্ষার্থী টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১৪ জন। দুই ডোজ পেয়েছেন ছয় হাজার ৭২ জন।

ইউজিসি সূত্র জানায়, সব শেষ প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। গণটিকা শুরু হওয়ার পর গেল কয়েক দিন ব্যাপকসংখ্যক শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকার চাইছে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে জট লেগে থাকা স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো শেষ করতে। একই সঙ্গে আটকে থাকা স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শেষ করারও চিন্তা রয়েছে সরকারের।

এরপর ধাপে ধাপে কলেজ ও স্কুল খুলে দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া দুই দিন পর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন করতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে ডেঙ্গু বিস্তার ঠেকানোর সহায়তার পাশাপাশি করোনা-পরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতিও হয়ে যাচ্ছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘সরকার এখন শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই তৎপর। শিক্ষার্থীরাও টিকা নিচ্ছেন। আমরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার পর্যায়ে রয়েছি। আমার বিশ্বাস, আগামী দু-এক মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যবস্থা হবে।’