
বিএনপি থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ দুপুরে সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার কথা ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন।
বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে, আজ বিকেল চারটার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপর প্রার্থিতা যাচাই–বাছাই করা হবে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। আজ বেলা ১১টার দিকে কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। এর আগে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। মাঝের সময়ে সাতজন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন ক্ষমতাসীন দল থেকে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়নি।
সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০। ফলে ভোটে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন, এটা অনেকটাই পরিষ্কার।


