বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

0
0
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “আজ ২৮ জুলাই। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য কর্মসূচি এবং অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।

দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘Let’s Break It Down’ (চলুন সহজভাবে বুঝি)। এই প্রতিপাদ্যে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করে সচেতনতা সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভয় ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রতিরোধ, পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সবার জন্য সহজলভ্য করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি-এর কারণে লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন। অথচ সময়মতো টিকাদান, পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তাই হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবাপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা দূর করা এখন সময়ের দাবি।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে দেশে উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন কমে।

একই সঙ্গে লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্য-তথ্য সংরক্ষণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ধারাবাহিক চিকিৎসা এবং সরকারি সহায়তা প্রদান আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপ ব্যবস্থাও এতে আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য একটি আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ (প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম)-এই নীতিতে জনস্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট, লিভার চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আরও সফল হব এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। আমি বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.