
আজ বায়ুদূষণের শীর্ষে ঢাকা। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্যে দেখা গেছে, শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ছিল ২১৬, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে।
সোমবার (১১ মে) সকালেই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ঢাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বায়ু শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের হুমকি। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসতন্ত্র বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। এমন পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।
দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়। শহরটির একিউআই স্কোর ১৫৬। এরপর তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, যার স্কোর ১৫৫। ভারতের দিল্লি ও কলকাতা রয়েছে তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে।
বায়ুমানের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে সেটিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় দূষিত বাতাসে থাকলে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে যানবাহনের কালো ধোঁয়া, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটার ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানার অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য নির্গমন। বৃষ্টি কম হওয়া ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণেও দূষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, দূষণ কমাতে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ খুব কমই দেখা যায়। তাদের মতে, পরিবেশ রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নির্মাণকাজে নিয়ম মানা নিশ্চিত না হলে রাজধানীর বায়ু পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।


