বিশ্বে প্রশংসার আসনে শেখ হাসিনা

0
31
বিশ্বে প্রশংসার আসনে শেখ হাসিনা
বিশ্বে প্রশংসার আসনে শেখ হাসিনা

চলমান করোনা মহামারীতেও বিশ্বদরবারে সরব উপস্থিতি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা মোকাবিলা করেও বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তাঁর ভূমিকা প্রশংসা কুড়াচ্ছে বিশ্বনেতাদের। একই সঙ্গে উন্নত দেশগুলোর ভ্যাকসিন যুদ্ধের মধ্যেই বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও প্রয়োগ তাক লাগিয়ে দিয়েছে অনেককেই।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কেবল দেশের মধ্যেই উদ্যোগ নিয়ে থেমে থাকেননি, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উদ্যোগ নিয়েও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একের পর এক বক্তব্য ও প্রস্তাব দৃষ্টি কেড়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের মতে, করোনাভাইরাস মহামারীতে সৃষ্ট নজিরবিহীন সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামনে থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের যে দায়বদ্ধতা আছে তার প্রতিও তিনি অবিচল এবং একই সঙ্গে অন্য অংশীদারদের কাছ থেকেও দায়িত্বপূর্ণ আচরণের প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।

শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার আগে ও পরে বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক ধীশক্তি ও দূরদর্শিতার যোগ্য উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। শান্তিপূর্ণভাবে বিবাদ মীমাংসা, আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের নেতৃত্ব প্রদান, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদান- এ বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা ও দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পৃথিবীর অনেক প্রখ্যাত নেতা এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন। এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতেরা যখনই কোনো বিশ্বনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন তখনই তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন।

জানা যায়, জেনেভায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমান গত সপ্তাহে ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিতে গেলে আর্চ বিশপ পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বেরর অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন।

ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান গত শুক্রবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থায় (এফএও) স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয়পত্র প্রদান করতে গেলে মহাপরিচালক চু ডংইউ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন। বিশ্বের শীর্ষ ১০টি জনবহুল দেশের একটি হওয়ার পরও বাংলাদেশের ১৬৫ মিলিয়ন মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের ব্যাপক প্রশংসা করেন এফএও মহাপরিচালক।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলতৃণ, শুধু করোনা মোকাবিলা নয়, বিশ্বের অপরিহার্য অন্যান্য বিষয়েও সরব রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শারীরিকভাবে উপস্থিতি ছাড়াই ভার্চুয়ালি আয়োজিত বিভিন্ন ফোরামে নিয়মিত সংযুক্ত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সর্বশেষ রবিবার তিনি আগামী প্রজন্মের সবুজ ভবিষ্যতের জন্য তিন দফা উপস্থাপন করেছেন। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) চেয়ারম্যান এবং গ্লোবাল সেন্টার ফর এডাপটেশনের দক্ষিণ এশীয় কার্যালয়ের আয়োজক হিসেবে শেখ হাসিনা পার্টনারিং ফর গ্রিন গ্রোথ অ্যান্ড দ্য গ্লোবাল গোলস ২০৩০-পিফোরজির সিউল সম্মেলনে এ তিন দফা উপস্থাপন করেন।

গত মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল মুসলিম দেশগুলোর জোট ডি-৮-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী দুই বছর তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশ, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ডি-৮-এ ১৯৯৯ সালেও এক দফায় সভাপতিত্ব করেছেন শেখ হাসিনা।

এপ্রিলের শেষে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের সামনে চার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত জলবায়ুবিষয়ক দুই দিনব্যাপী ‘লিডারস সামিটে’ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ুর ক্ষতি প্রশমন ও পুনর্বাসনে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার ফান্ড নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে বেশি মনোযোগী হওয়ার কথা বলেন তিনি।

গত সেপ্টেম্বরে পৃথিবী ও মানব জাতির সুরক্ষায় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চারটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত বায়োডাইভারসিটি সামিটে জীববৈচিত্র্য রক্ষার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কেবল অন্য প্রজাতি বিলুপ্তির কারণ হচ্ছি না, বর্তমান কর্মকান্ড পরিবর্তন না হলে প্রকৃতপক্ষে মানব জাতিই চূড়ান্ত বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাবে। তাই পৃথিবী ও আমাদের অস্তিত্ব রক্ষায় অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

একই সময়ে ওয়ার্ল্ড উইমেন কনফারেন্সেও সোচ্চার ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ভার্চুয়ালি রাখা বক্তব্যে ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ৫০-৫০-এ উন্নীত করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি নারীর সমতা, ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার নবায়ন ও প্রচেষ্টা জোরদারেরও আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছর বিশ্ব যখন করোনা মহামারীতে কাঁপছিল তখন করোনার ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগেও অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তখনই ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ তহবিলে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার দেয় বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সব সময়ই সাম্য, ন্যায় ও জাতীয় মালিকানার নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তাই সবাই যেন ভ্যাকসিন পায বা যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তারা যেন তা পায়, একজনও যেন বাদ না পড়ে তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রয়াস নিয়েছেন।

পাশাপাশি করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য তহবিল গঠনের ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী। তখন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বিশ্বকে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লেখেন, ‘বিশ্ব এক অজানা এবং অদেখা শত্রুর বিরুদ্ধে আজ লড়াই করছে। এ শত্রুর কোনো সীমানাবোধ নেই, নেই কোনো শ্রেণিবোধ। সবচাইতে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো আমাদের ব্যবস্থাপনার ত্রুটিগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে এ শত্রু। এমন অবস্থায় বিচ্ছিন্ন হয়ে নয় বরং পরস্পরকে সহযোগিতার মাধ্যমে এ কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে পারব আমরা।’