প্রতিমাসে এক কোটির বেশি করোনা টিকার ডোজ পেতে ব্যবস্থাঃ প্রধানমন্ত্রী

0
26
প্রতিমাসে এক কোটির বেশি করোনা টিকার ডোজ পেতে ব্যবস্থাঃ প্রধানমন্ত্রী
প্রতিমাসে এক কোটির বেশি করোনা টিকার ডোজ পেতে ব্যবস্থাঃ প্রধানমন্ত্রী

মহামারি করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,  প্রতিমাসে এক কোটির বেশি করোনা টিকার ডোজ পেতে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। 

বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী সিনোফার্মা থেকে বাংলাদেশ আগামী অক্টোবর থেকে প্রতিমাসে দুই কোটি টিকার ডোজ পাবে। ডিসেম্বর পর্যন্ত সিনোফার্মা থেকে প্রায় ছয় কোটি ডোজ আসবে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ পর্যন্ত (৩০ আগস্ট) এক কোটি ৮২ লাখ ৮৯ হাজার ১৮ জনকে প্রথম ডোজ এবং ৭৮ লাখ ৪০ হাজার ১৬৯ জনকে দ্বিতীয় ডোজসহ দুই কোটি ৬১ লাখ ২৯ হাজার ১৮৭ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। মজুদ রয়েছে এক কোটি ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৩ ডোজ। টিকা সংগ্রহ করা এবং সবাইকে বিনামূল্যে টিকা প্রদানের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জনগণকে বিনামূল্যে টিকা দিতে টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সকল টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।

করোনার টিকা সংগ্রহে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, টিকা সংগ্রহে আমরা বিশ্বের সব উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছি। এর মধ্যে কেবল ভারতের সেরাম ইনস্টিটিটিউ থেকে সাড়া পাই এবং অগ্রিম টাকা দিয়ে তিন কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহের চুক্তি করি।

অন্যান্য উৎপাদনকারী সংস্থা থেকে টিকা পাওয়ার কোনো সাড়া মেলেনি। পরবর্তী সময়ে চীনের সিনোফার্মা এবং রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি থেকে সাড়া পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোগ নিই। এর মধ্যে সিনোফার্মার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য সমঝোতা চুক্তিও হয়েছে।

এদিকে সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। বন্যা থেকে রক্ষা, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, নদী শাসন, নাব্যতা রক্ষাসহ সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ নেওয়া হয়েছে।

এতে সারা দেশকে সাতটি নদী বেসিনে বিভক্ত করে সমীক্ষা সম্পাদন হচ্ছে। ইতোমধ্যে কর্ণফুলী, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর বেসিনভিত্তিক সমীক্ষা শেষ হয়েছে। পানি প্রবাহের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীগুলোকে স্থিতিশীল রাখা ও যথাযথ পলি ব্যবস্থাপনা কৌশল অনুসরণ করে কার্যক্রম নেওয়ার মাধ্যমে দেশের বন্যা ঝুঁকি হ্রাস ও নদীভাঙন কবলিত এলাকার ভাঙন রোধ করে টেকসই উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত অর্জন সম্ভব হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার বিকেলে সংসদের চতুর্দশ অধিবেশন শুরু হয়। করোনার কারণে এবারের অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে বলে সংসদ সূত্রে জানা গেছে।