দেশিই গাছের প্রসার বাড়াতে ৫১২ কিলোমিটার পদযাত্রা

0
36
৫১২ কিলোমিটার পদযাত্রা

ক্ষতিকর বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতির বৃক্ষের বদলে পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও স্থানীয় প্রাণ প্রকৃতির পক্ষে উপযোগী ফলের গাছ রোপণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পদযাত্রা করেছে ‘ফলদ বাংলাদেশ’। ১৬ দিন পায়ে হেঁটে ৫১২ কিলোমিটার পদযাত্রা করে ময়মনসিংহ থেকে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ফুল দিয়ে পদযাত্রার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

১৬ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা শুরু করে ফলদ বাংলাদেশ এর ৮ সদস্য। দীর্ঘ ৫১২ কিলোমিটারের পথযাত্রায় প্রায় ২৫০টি বাজারে ফলের গাছ রোপণের জন্য মানুষকে উৎসাহিত করেছে তারা।

ফলদ বাংলাদেশের পদপরিক্রমার সমন্বয়ক মাহমুদুল আহসান লিমন জানান, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপ্টাস, রেইনট্রি, মেহগনি, শিশু ও একাশিয়া ৫ প্রজাতির গাছ রোপণ না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও বিদেশি ফলের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য ফলের গাছ রোপণের উপর গুরুত্ব দেন আয়োজকরা।

বাংলাদেশের মাটিতে সত্যিই সোনা ফলে,শুধু ফলানোর মানসিকতা দরকার। সে ইচ্ছে উদ্যম ও স্বপ্ন থেকে যাত্রা শুরু করে ফলদ বাংলাদেশ নামক এই সংগঠন। দেশের প্রায় ৪৩ টি জেলায় ফলের গাছ লাগানোর মধ্যে দিয়ে কার্যক্রম বৃদ্ধি করার কথা জানিয়েছেন তরুন এই উদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তাদের দাবী বছরের পর বছর ভুল বাস্তবায়নের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য, খাদ্য, শৃঙ্খল, পুষ্টি ও ভিটামিনের উৎস গুলোকে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।

শুধু মাত্র কাঠনির্ভর বৃক্ষরোপণ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপদজনক করে তুলছে। তাই নিজেদের অর্থায়ন এবং ২৫০ জন সদস্য সারাদেশে প্রায় ৩ লক্ষ্য ফলের গাছ লাগিয়েচছে। মূল উদ্দেশ্য মানুষকে সচেতন করা।

এক জরিপে দেখা গেছে আমাদের দেশের পুষ্টির বার্ষিক ঘারতি সাত হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ,ফলজ বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে এই ঘারতি আমরা সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারি। গাছের গুরুত্ব, উপকারিতা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষের অবদান সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে ২০১০ সাল থেকে ব্যতিক্রমী এ কার্যক্রম করে যাচ্ছে সংগঠনটি। প্রতিবছর বর্ষার আগে পদযাত্রা করে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করা হলেও এবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে তা এ সময়ে করা হয়েছে।