কুশ মাদক তৈরি, গবেষণা শুরু করেছিলেন সাঈদ

0
56
কুশ মাদক তৈরি, গবেষণা শুরু করেছিলেন সাঈদ
কুশ মাদক তৈরি, গবেষণা শুরু করেছিলেন সাঈদ

মাদকবিজ্ঞানী হতে চেয়েছিলেন ওনাইসি সাঈদ ওরফে রেয়ার সাঈদ (৩৮)। শুরু করেছিলেন গবেষণা। বিভিন্ন অপ্রচলিত ও নতুন মাদক বিক্রি ও তাপ নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কুশ মাদক তৈরি করতেন। দেশের বাইরে বিপুল পরিমাণে কুশ চালানের পরিকল্পনা করেছিলেন।

র‌্যাব বলছে, নতুন নতুন মাদক কীভাবে উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি ও বাজারজাত করা যায় তা নিয়ে বিস্তর অধ্যয়ন করতেন ওনাইসী সাঈদ। এ লক্ষ্যে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে তাপ নিয়ন্ত্রণ গ্রো-টেন্ট এর মাধ্যমে অভিনব পন্থায় কুশ তৈরির প্লান্ট ও সেটআপ করেছিলেন।

গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এক্সট্যাসি নামক একটি নতুন মাদকের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে পেরে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। সবশেষ শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে ওনাইসী সাঈদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাবের একটি দল। এসময় বাংলাদেশে সর্বপ্রথম অপ্রচলিত মাদক এক্সট্যাসি, কুশ, হেম্প এবং মলি, এডারল, ফেন্টানিলসহ অন্যান্য মাদক উদ্ধার ও প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের দেশি ও বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়। এক্সট্যাসি হলো মেথানিল ডাই-অক্সি মেথাফিটামিন।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খোন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রচলিত নয়; কিন্তু বিভিন্ন উন্নত দেশে প্রচলিত এমন কিছু মাদকের ব্যবহার বাংলাদেশে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যাতে ধীরে ধীরে আমাদের যুব সমাজ আসক্ত হয়ে উঠছে। তার প্রমাণ এই নতুন মাদকের সন্ধান। র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর অভিযানে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে ওনাইসী সাঈদকে গ্রেপ্তার করে। এসময় ১০১ গ্রাম কুশ, ৬ গ্রাম হেম্প, ০.০৫ গ্রাম মলি, ১ গ্রাম ফেন্টানল, ১৮ গ্রাম কোকেন, ১২৩ পিচ এক্সট্যাসি, ২৮ পিচ এডারল ট্যাবলেট এবং ২ কোটি ৪০ লাখ নগদ টাকা ও অর্ধ লক্ষাধিক মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে তাপ নিয়ন্ত্রণ গ্রো-টেন্ট এর মাধ্যমে অভিনব পন্থায় বিদেশি প্রজাতির কুশ তৈরির প্লান্ট ও সেটআপ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ওনাইসী সাঈদ তার মাদক কারবার সংশ্লিষ্টতার নানা তথ্য দিয়েছে র‌্যাবকে।

এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার মঈন বলেন, আমরা জব্দ করা সব মাদক ল্যাবে পরীক্ষা করব। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, আফিমের চেয়ে ৫০ গুণ শক্তিশালী হচ্ছে জব্দ ফেন্টালন। আর মারিজুয়ানার চেয়ে ১২ গুণ শক্তিশালী মাদক কুশ। এসব মাদক সেবনে স্নায়ু উদ্দীপনা তৈরি করে। ৪/৫ ঘণ্টার জন্য পার্টি মুড তৈরি করে। এখন পর্যন্ত সে ১০০ গ্রাম কুশ মাদক বিক্রি করেছে ৩ লাখ টাকায়। এভাবে ৪০০ গ্রাম বিক্রি করেছে।