
বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই অবস্থান ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা। প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যে কি তবে রাষ্ট্রপতি শাসনের পথে হাঁটতে পারে পরিস্থিতি?
নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে বিজেপি, এবং নতুন সরকার সম্ভবত শনিবার শপথ নিতে পারে। কিন্তু বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগে অস্বীকৃতি এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস. ওয়াই. কুরেশি জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল সাংবিধানিক নিয়ম মেনে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইতে পারেন। যদি তা না হয়, তবে ভারতের সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, এমনকি এক-দু’দিনের জন্য হলেও রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। একই সময়ে দু’জন মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারেন না।
এই নির্বাচনে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও পরাজিত হয়েছেন মমতা, যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবুও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা পরাজিত হইনি, আমি পদত্যাগ করব না।” পাশাপাশি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
সাধারণত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত ‘তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে রাখা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রথা অনুসৃত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার জন্য বিধানসভার আস্থা অপরিহার্য। বর্তমান ফলাফলে তা আর নেই বলেই মত তাঁদের।


