ইউক্রেনে রুশ সেনা প্রবেশের নির্দেশ পুতিনের

0
66
ইউক্রেনে রুশ সেনা প্রবেশের নির্দেশ পুতিনের
ইউক্রেনে রুশ সেনা প্রবেশের নির্দেশ পুতিনের

ভ্লাদিমির পুতিন পূর্ব ইউক্রেনের বিচ্ছিন্ন দুটি অঞ্চলে ‘শান্তি বজায়’ রাখার জন্য রুশ সৈন্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে তিনি দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক ও লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক-এর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। দুটি সরকারি ডিক্রিতে সোমবার পুতিন ওই দুই অঞ্চলে ‘শান্তি বজায়’ রাখার জন্য রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।

পাশ্চাত্যের দেশগুলোর সতর্কতা অগ্রাহ্য করেই সোমবার এই সিদ্ধান্ত নেয় মস্কো। রাশিয়ার টিভি চ্যানেলে এক দীর্ঘ ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অবিলম্বে দোনেৎস্ক ও লুগানস্কের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।’

অন্য দিকে কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপের ফলে পাশ্চাত্য-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে সঙ্ঘাত শুরু হতে পারে রাশিয়ার।

সোমবার সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাথে দীর্ঘ বৈঠকে পুতিন সিদ্ধান্ত নেন দোনেৎস্ক ও লুগানস্ককে স্বাধীন ঘোষণা করা হবে। রুশ সংবাদ সংস্থার সূত্রে জানা যায়, ওই বৈঠকে পুতিন বলেন, ‘আপনাদের সবার মতামত জানলাম। আজই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলার ও জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ওলাফ শলৎজকে জানিয়েছেন পুতিন। কিন্তু টেলিফোন কথোপকথনে দুই দেশের প্রধানই অসম্মতি প্রকাশ করেছেন। তার মধ্যেই দুই অঞ্চলকে স্বাধীন হিসেবে ঘোষণা করেন পুতিন। ক্রেমলিনেরল রুশপন্থী নেতাদের সাথে চুক্তি সাক্ষর করতে দেখা যায় পুতিনকে।

দীর্ঘ ভাষণের পর পুতিন রুশ পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষকে এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করতে বলেন। পাশাপাশি, ইউক্রেনে রুশপন্থীদের বিরুদ্ধে সরকারের সামরিক অভিযান বন্ধ করার কথা বলে পুতিনের হুঁশিয়ারি, ‘আমরা অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, রক্তপাতের দায় সম্পূর্ণ ভাবে বর্তাবে ইউক্রেনের ক্ষমতায় থাকা সরকারের উপরে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আধুনিক ইউরোপের সম্পূর্ণ রূপকার শুধু রাশিয়াই।’

এই স্বীকৃতি দীর্ঘ টানাপড়েনের অবসান ঘটাবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করার পর বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে প্রায় ১৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্য অংশের মত আবার ভিন্ন। এ নিয়ে তারা বড় সঙ্ঘাতের আঁচ করছেন।

আবার এর ফলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর সাথে শান্তিচুক্তি শেষ হলো এবং ইউক্রেন অঞ্চলে সেনাও পাঠাতে পারবে রাশিয়া। দুই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ, যাদের কাছে রাশিয়ার পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের সুরক্ষার্থে এই পদক্ষেপ বলে ব্যাখ্যা দিতে পারেন পুতিন। কার্যত, ইউক্রেনের ওপর পরোক্ষভাবে চাপ বাড়ছে। তাদের হাতে দুটি বিকল্প। হয় দুই অঞ্চলের অধিকার ছেড়ে দিতে হবে, নয়ত রাশিয়া সেনা বাহিনীর সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে।

ইউক্রেন-সঙ্কটের আবহে কয়েক দিন আগে স্বঘোষিত দোনেৎস্ক পিপলস্ রিপাবলিকের জরুরি মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া একটি বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় সাত লাখ মানুষকে তারা রাশিয়ার সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ওই অঞ্চলে ইউক্রেন গোলাবর্ষণ করছে বলে অভিযোগ করা হয়।