ইউএনওর নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ, ১৫ দিন পর ফের কথিত কবিরাজি কার্যক্রম শুরু

    0
    2
    ১৫ দিন
    ইউএনওর নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ, ১৫ দিন পর ফের কথিত কবিরাজি কার্যক্রম শুরু

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় পশ্চিমপাড়া গ্রামের কথিত কবিরাজ বৃষ্টি আক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার প্রায় ১৫ দিন পর পুনরায় তার কথিত কবিরাজি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি আক্তার বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি, পারিবারিক সমস্যা ও অন্যান্য জটিলতার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে আসছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাড়ি বন্ধ দেওয়ার জন্য ২১০০ টাকা এবং শিশুদের চিকিৎসার জন্য ৩৫০ টাকা করে নেওয়া হয়।”

    অনুসন্ধানে তার ব্যবহৃত কক্ষে কোরআন শরীফ, ত্রিশূল এবং বিভিন্ন পূজার সামগ্রী দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, “কালী, মহাদেব ও জিন আমার সঙ্গে কথা বলে।”

    তিনি আরও বলেন, “হিন্দুধর্মও আল্লাহর সৃষ্টি। তাই কোরআন শরীফের পাশে ত্রিশূল ও পূজার সামগ্রী রাখা যায়।”

    এসব বক্তব্য ও কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। সংবাদ সংগ্রহের সময় বৃষ্টি আক্তারের স্বামী আরমান মোল্লা সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এর আগে অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৫ জুন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে কথিত কবিরাজি চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সেই নির্দেশ অমান্য করে প্রায় ১৫ দিন পর আবারও কথিত কবিরাজি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    নতুন করে কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরমান মোল্লা বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আবার নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেছি। ওসি আমাকে ফোন করে নিষেধ করেছিলেন। তারপরও আলহামদুলিল্লাহ, আমি আবার শুরু করেছি।”

    আরমান মোল্লার এ বক্তব্য এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় একই কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষ যাতে প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

    আবু বক্কার স্টাফ রিপোর্টার

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.