আজ পবিত্র হজ

0
4
সৌদিতে পৌঁছেছেন
সৌদিতে পৌঁছেছেন ৫১ হাজার ১৯৪ বাংলাদেশি হজযাত্রী

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত এখন সৌদি আরবের আরাফার ময়দান। আজ মঙ্গলবার বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় জনসমাগম, যেখানে একই লক্ষ্যে শামিল হয়েছেন নানা জাতি ও বর্ণের মানুষ।

সৌদি কর্তৃপক্ষের কঠোর নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় হাজিরা শান্তিপূর্ণভাবে আরাফার ময়দানে পৌঁছান। ভিড় সামলাতে এবং হাজিদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকেই বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল দেশটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

ভোর থেকেই হাজিদের কাফেলা জাবালে রহমত বা দয়ার পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। সেখানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত কামনায় দুই হাত তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন সমবেত মুসলমানরা। এক আধ্যাত্মিক ও ভাবগম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টি হয় পুরো এলাকা জুড়ে।

ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, জাবালে রহমত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ স্থান। আজ থেকে ১৪০০ বছরেরও বেশি আগে বিদায় হজের সময় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এখানেই তার ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। বর্তমানে এটি হজের সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শন এবং আরাফাত দিবসের মূল কেন্দ্রবিন্দু। ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক, ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান রোকন, এখানে অবস্থান ছাড়া হজ পূর্ণাঙ্গ হয় না।

মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই আরাফাত ময়দান বছরের বাকি সময় জনশূন্য থাকলেও হজের দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য মুখরিত হয়ে উঠে। পাহাড়বেষ্টিত এই এলাকাটি তখন হয়ে ওঠে মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু।

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের সেবায় পুরো আরাফাত এলাকায় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জরুরি সেবা ইউনিটগুলো পুরোদমে চালু রয়েছে। মাউন্ট আরাফাত হাসপাতালসহ ক্লিনিক ও অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনগুলোকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।

পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্সের বিশেষ উদ্ধারকারী দলগুলো পাহাড়ের দুর্গম ও উঁচু স্থানে মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় তারা আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

এদিকে পৌরসভা ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছরের হজ মৌসুম উপলক্ষ্যে পবিত্র স্থানগুলোতে আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হাজিদের যাতায়াতের পথগুলো সুগম করতে প্রায় ৫ হাজার টাওয়ার ও পোল-এ ২০ হাজারেরও বেশি আধুনিক লাইট লাগানো হয়েছে। মক্কা ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ২ লাখ লাইটিং ইউনিটের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে যাতে রাতভর সেবা অব্যাহত থাকে।

বিশাল এই কর্মযজ্ঞ ও জনসমুদ্রের পরেও সূর্যাস্তের পরপরই যখন হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, তখন চিরচেনা রূপে ফিরবে আরাফাত। জনশূন্য এই প্রান্তর আবারও নিরব হয়ে যাবে পরবর্তী হজের আগ পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.