পাপারাজ্জিদের জন্যই এখন তারকারা এয়ারপোর্টে, জিমে সেজেগুজে আসেন

0
22

‘পাপারাজ্জি’ বা ‘পাপারাৎসি’ মূলত একটি বহুবাচক শব্দ, যা এসেছে একবাচক ইতালীয় শব্দ paparazzo থেকে। শব্দটি দ্বারা এমন সব আলোকচিত্রীদের বোঝানো হয়, যারা নির্দিষ্ট কোনো মঞ্চ বা অনুষ্ঠান ছাড়া তারকাদের অসচেতন ও ব্যক্তিগত মুহুর্তের ছবি তোলেন।

পাপারাজ্জিদের হাত থেকে বাঁচতে তারকারা নানা কৌশল অবলম্বন করে থাকেন। পাপারাজ্জিরা একদিকে তারকাদের জীবনে এক উৎপাতের নাম হলেও অন্যদিকে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে তাদেরই খুব কাজে লাগে।

কোন তারকা কোথায় গেলেন, কার সঙ্গে গেলেন, কী পোশাক পরলেন—সব ঘটনাই ক্যামেরাবন্দী করে পাপারাজ্জির দল। ইতালিয়ান শব্দ ‘পাপারাজ্জো’–র বাংলা অর্থ ভোঁ ভোঁ শব্দ করে ঘুরে বেড়ানো পতঙ্গ।

সেখান থেকেই এই ‘পাপারাজ্জি’ শব্দের আগমন। পাপারাজ্জি আলোকচিত্রীদের কাজের ধরনও অনেকটা সেই পতঙ্গের মতোই। তারকাদের ছবি দেখার সময় মাঝেমধ্যে নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছা হয়।

তাঁরা এমন সময় ছবি তোলেন যখন, তারকারা চান না এই ছবিগুলো কেউ তুলুক বা বাইরের জীবনে প্রকাশ হোক। যেমন: তাঁরা যখন দোকানে বা মার্কেটে যান, কোনো রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া করেন, বা সমুদ্রসৈকতে অবকাশযাপন করেন ইত্যাদি।

মানব মঙ্গলানি এই পেশায় আছেন ১৫ বছরের বেশি। মানব জানান, তাঁর কোম্পানির একজন সব সময় এয়ারপোর্টে থাকেন। মানব বলেন, একটা ছবি তোলার ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে সেটা হাউসে পৌঁছানো দরকার। নতুবা এখন মার্কেটে এত ফটো সাংবাদিক! একবার ইনস্টাগ্রামে এ ধরনের একটা ছবি চলে যাওয়া মানে তাঁর তোলা ছবি একেবারে মূল্যহীন। তবে এই পাপারাজ্জি অন্যদের চেয়ে বেশ ভালো অবস্থানে আছেন। মানব মঙ্গলানিকে বেশির ভাগ তারকা চেনেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার প্রায় পাঁচ লাখ। তিনিই ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের কোলে আরাধ্যর প্রথম ছবিটা তুলেছিলেন। সেই ছবি কত দামে বিক্রি করেছেন? জবাব দিতে গিয়ে প্রথমে গালভরা হাসি দিলেন। শেষে বললেন, ‘না, এটা বলা যাবে না।’

সানজানা শর্মা জানান, ভারতে অনুষ্ঠান কভার করার জন্য অনেক নারী আলোকচিত্রী আছেন। কিন্তু তাঁর জানামতে, একমাত্র নারী তিনিই। রাত ৩টা বা সাড়ে ৩টা থেকে তাঁর কাজ শুরু হয়। তিনি মূলত লেট নাইট পার্টিগুলো কভার করেন। এই নারী পাপারাজ্জি আরও জানান, একজন পুরুষ পাপারাজ্জি যা যা করেন, তিনিও তাই তাই করেন। আর তিনি বেতন বা অ্যাসাইনমেন্টের ক্ষেত্রে কখনো কোনো বৈষম্য পাননি।

পাপারাজ্জি হতে কী লাগে?
অবশ্যই বাইক থাকতে হবে। তা না হলে ‘ফলো’ করবেন কীভাবে? তবে সবাই জানালেন, এটা নেশার মতো। এই নেশা কারও ভেতর না থাকলে পাপারাজ্জি হওয়া সম্ভব নয়। অজয় সুরভীর কথায় ঝরে পড়ে দুঃখও। বললেন, ‘আমি চাই না, আমার সন্তান এই কাজ করুক। কারণ, এখানে কোনো সম্মান নেই। কোথাও নাম ছাপা হয় না। কী করি, জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতে পারি না। মানুষ বোঝেও না।’
তবে ইদানীং চিত্রটি বদলে যাচ্ছে বলেও বিশ্বাস এই প্যাপদের।

পাপারাজ্জিদের যত ভুল
অজয় সুরভী বিশ্বাস করেন, পাপারাজ্জিরাও ভুল করেন। কোনো তারকা যখন বলেন, আজ মুড নেই, প্লিজ ছবি তুলবেন না, অজয় তোলেন না। অজয় বলেন, ‘এই সম্মানটুকু তো অবশ্যই করা উচিত। একবার অর্জুন কাপুর আমাকে দেখে ডাকেন। তারপর তোলা ছবিগুলো ডিলিট করতে বলেন। আমিও সঙ্গে সঙ্গে ডিলিট করে দিই।’ সাইফ আলী খান যা বলেছিলেন, ঠিক বলেছিলেন মনে করেন তিনি। ক্যামেরার ফ্ল্যাশে শিশুদের চোখের ক্ষতি হয়। কিন্তু সঙ্গে আরও বলেন, ‘আমরা কী করব, আমাদেরও তো বাঁচতে হবে!’ তবে কোনো তারকা যদি নিষেধ করেন, তা মেনে ছবি তোলেন তিনি।

পাপারাজ্জি বৈধ?
এ নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক আছে। একপক্ষ জোর গলায় বলেন, নীতি বলে তো একটা কথা আছে! তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন একান্তই তাদের। সেখানে ক্যামেরার অনুপ্রবেশ ঠিক নয়। আবার অনেকে তর্ক জুড়ে বসেন, যা দেখানো হয় বা বলা হয়, সেটা প্রকৃত সাংবাদিকতা নয়। প্রকৃত সাংবাদিকতা হলো, যেটা আড়াল করা হয়, সেটা খুঁজে বের করে আনা। এভাবে তাঁরা পাপারাজ্জিদের বৈধতা দেন। তবে বৈধ হোক আর অবৈধ, জনপ্রিয়তা বাড়ছে পাপারাজ্জিদের। বাড়ছে গ্রহণযোগ্যতা। ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন একবার বলেছিলেন, ‘আরাধ্য বেশ ভালোভাবে সামলাচ্ছে পাপারাজ্জিদের। তবে মা হিসেবে আমি ওকে আড়ালে রাখতে চাই। তাঁদের কাজ ছবি তোলা, আমার কাজ আড়াল করা, সতর্ক থাকা।’

পাপারাজ্জিদের জন্যই এখন তারকারা এয়ারপোর্টে সেজেগুজে আসেন, জিমেও নতুন নতুন জামা পরে আসেন। আর বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিশু তারকা তৈমুর আবার পাপারাজ্জিদের খুব পছন্দ করে। বাইরে বের হলেই চারদিকে খুঁজে খুঁজে বের করে পাপারাজ্জিদের। তারপর হাত নেড়ে কথা বলে, পোজ দেয়। মা কারিনা কাপুর খান বলেছেন, ‘পাপারাজ্জিরাই ওর সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আমি বরং পাপারাজ্জিদের কাছ থেকে ওর ছবি নেব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.