নারী উদ্যোক্তা

0
36

অপরাজয়া ডেস্ক : নারীরাও এখন আর ঘরে বসে থাকছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে এগিয়ে আসছে ব্যবসা বাণিজ্যে। ফলে দিন দিন নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে।  ২০১৮ সালেই এসএমই খাতে নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে দশ হাজার ২২০ জন। এ হার ২০১৭ সালের তুলনায় ১৬০ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের ক্ষমতায়ন ও আর্থিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরণের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি নারীদের ব্যবসা বাণিজ্যে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে। এ কারণে নারী উদ্যোক্তা বাড়ছে। ভবিষ্যতে সরকারের এসব সুযোগ সুবিধা অব্যহত থাকলে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

২০১৮ সাল শেষে মোট নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৬৯৫ জন। এর মধ্যে শুধু  ২০১৮ সালে নারী উদ্যোক্তা বেড়েছে ১০ হাজার ২২০ জন। আর ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৭৬ জন। অর্থাৎ এক বছরে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬০ শতাংশের বেশি।

ব্যবসা খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে দুই হাজার ২৭০ জন। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এ উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়েছেন ২২৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আলাচ্য সময়ে উৎপাদনশীল খাতে নতুন নারী উদ্যোক্তা হয়েছে ৬৮৫ জন। এসব উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়েছেন ১১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

নারী উদ্যোক্তাতের জন্য এসব সুযোগ সুবিধা বহাল থাকায় নারীরা সহজে ঋণ নিতে পারছে। গ্রামের প্রান্তিক পর্যায়ের কোন নারীও ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুবিধা নিতে পারছে। এ কারণে দিন দিন নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান তিনি। নারী উদ্যোক্তা ঋণে খেলাপির পরিমাণও কম বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিআইবিএম) এর এসএমই কনসালটেন্ট সুকোমল সিংহ চৌধুরী অর্থসূচককে বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের নারীরা অনেক পিছিয়ে আছে। এ কারণে নারীদের ক্ষমতায়ন ও আর্থিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নারী উদ্যোক্তা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। তবে শুধু সংখ্যা বৃদ্ধি নয় বরং যারা ঋণ নিচ্ছেন তারা যেন ঋণটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার কর উদ্যোক্তা হিসেবে বেরিয়ে আসতে পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে। আর এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকেও ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং করতে হবে বলে তিনি জানান।

প্রকৃত নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মুনসুর অর্থসূচককে বলেন,  নারী উদ্যোক্তারা যেহেতু সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ পায় তাই তারা কাগজে কলমে উদ্যোক্তা হলেও এ ঋণ ব্যবহার করে তাদের স্বামী অথবা পরিবারের কেউ। তবে কঠোর মনিটরিং করতে পারলে প্রকৃত নারী উদ্যোক্তারা তাদের সাফল্য তুলে ধরতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.