স্মার্টফোন ব্যবহারে ঝুঁকি ও করণীয়

0
48

প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোনের ব্যবহার নানা সুবিধার পাশাপাশি এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। Specific Absorption Rate সংক্ষেপে SAR-এর মাত্রা যদি সহনীয় পর্যায়ে না থাকে তাহলে তা মানবদেহের জন্য হুমকি। The Federal Communications Commission (FCC) এই SAR-এর লিমিট দিয়েছে 1.6 W/kg। এর বেশি হলে তা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অথচ আমাদের দেশে মোবাইল কোম্পানি এবং সরকার কোনো পক্ষই এখনও এই বিষয় নিয়ে তেমন কিছু ভেবেছে বলে জানা নেই। FCC তাদের নির্দেশনায় বলেছে মোবাইল ফোন মাথা ও কানের যত কাছে থেকে ব্যবহার করা হবে তত বেশি রেডিয়েশনের ইফেক্ট পড়বে। তাই এটি যতটা সম্ভব দূরে রেখে ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারে মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশনের ফলে মাথা ও তার আশপাশের জীবন্ত টিস্যু উত্তপ্ত হয়, ফলে মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায় যা ব্রেইন স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে। আর আমাদের চোখের কর্নিয়ার তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল; যার ফলে সহজেই দেখা দিতে পারে চোখের নানাবিধ সমস্যা। এ ধরনের সমস্যার কথা এখন প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের এই সমস্যার আশঙ্কা বেশি। এছাড়া ব্লাড-ব্রেইন বারিয়ার, ঘুম কম হওয়া, হাইপারটেনশন ইত্যাদি সমস্যাও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইল টাওয়ার বা বেস স্টেশনের কাছাকাছি এর প্রভাব আরও বেশি। বিদেশে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা হয় লোকালয় থেকে দূরে অথবা উঁচু পাহাড়ের ওপর। অথচ আমাদের দেশে শহরে লোকালয় আর বাড়ির ছাদে এই বেসস্টেশন বসানোর হিড়িক পড়ে গেছে, যা হওয়ার কথা লোকালয়ের বাইরে।

স্মার্টফোন ব্যবহারে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলেও তা যেহেতু আমাদের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়, তাই আমাদের স্মার্টফোন ব্যবহারের বিকল্প নেই। নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে মোবাইল ডিভাইসের নিরাপত্তাবিষয়ক টিপগুলো মনে রাখলে আপনার স্মার্টফোনকে নিরাপদ রাখতে পারবেন।

১) মোবাইল ফোনটিকে যতটা সম্ভব শরীরের থেকে দূরে রাখুন।

২) বেশিক্ষণ কথা বলতে হলে ল্যান্ডলাইন ব্যবহার করুন।

৩) যখন দরকার নেই তখন ফোনটিকে বন্ধ করে দিন বা এরোপ্লেন মুডে রাখুন।

৪) কথা বলার সময় স্পীকার বা হেডফোনের ব্যবহার করুন।

৫) চার্জ দেয়ার সময় ফোন বন্ধ করে রাখুন।

৬) লো ব্যাটারি থাকলে ফোনে কথা না বলাই শ্রেয়।

প্রসঙ্গত, প্যান্টের পেছনের পকেটে ফোন রাখার কারণে বেড়ে যেতে পারে পায়ের ব্যথা। ফোন সামনের পকেটে রাখলে পুরুষের স্পার্ম কাউন্ট কমে যায়। শার্টের পকেটে ফোন রাখলে হার্টের ক্ষতি হতে পারে। কারণ ফোন থেকে যে রেডিয়েশন বের হয় তা হার্টের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

শিশুর সামনে ফোন রাখাও বিপদজনক। বাচ্চারা বেশি ফোন নিয়ে খেলা করলে তাদের হাইপারঅ্যাকটিভিটি, ডিফিসিট ডিসঅর্ডার-এর মতো অসুখ দেখা দিতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.