লিঙ্গ সমতায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ

0
55

লিঙ্গ সমতায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো এ অঞ্চলে সেরা হল দেশটি। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘দ্য গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ-২০২০’শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০০৬ সাল থেকে এ সূচক প্রকাশ করে চলেছে ফোরাম।

বৈশ্বিক লিঙ্গ সমতা সূচকে নারী ও পুরুষের বৈষম্য এবং বিভিন্ন সময় এ বৈষম্য দূরীকরণে দেশগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। মূলত চারটি ক্ষেত্র (স্বাস্থ্য ও গড় আয়ু, শিক্ষার সুযোগ, অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন) নারী-পুরুষের বৈষম্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দেশগুলো অনেকখানি পিছিয়ে আছে।

তালিকায় নেপাল ১০১, শ্রীলংকা ১০২, ভারত ১১২, মালদ্বীপ ১২৩, ভুটান ১৩১ এবং পাকিস্তান অবস্থান ১৫১তে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ছাড়া তালিকার ১০০তম স্থানের আগে আসতে পারেনি এ অঞ্চলের কোনো দেশ।

এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের তিন ধাপ নিচে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র, দেশটির অবস্থান ৫৩তম। বাংলাদেশ প্রায় ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য কমিয়ে এনেছে। চারটি উপসূচকের মধ্যে বাংলাদেশ রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ, বৈশ্বিক অবস্থান ৭ম। অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ ও সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪১তম, শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে ১২০তম এবং স্বাস্থ্য ও গড় আয়ুতে ১১৯তম।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রকাশিত প্রথম ‘দ্য গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থান ছিল ৯১তম। সে সময় নারীর রাজনীতিক ক্ষমতায়ন উপসূচকে অবস্থান ছিল ১৭তম, শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে ৯৫তম, অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ ও সুযোগ তৈরিতে ১০৭তম এবং স্বাস্থ্য ও গড় আয়ুতে ১১৩তম।

বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে ৫০ বছরের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীরা দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্বের শীর্ষস্থানে রয়েছে। তবে দেশটির মন্ত্রিসভায় মাত্র ৮ শতাংশ এবং জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন মাত্র ২০ শতাংশ নারী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শীর্ষ ৫০ দেশের তালিকায় থাকা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব দেয়া বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন। তবে নারীর মৌলিক অধিকার জোরদার করা এবং তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্ভাবনার উন্নতি করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে দেশটির।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের হিসাবে মোট শ্রমশক্তির ৩৮ শতাংশ, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের অংশ ছিল। ২০১৭ সালে যা ছিল ৩৪ শতাংশ।

এবারও বৈশ্বিক এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। দশমবারের মতো দেশটি এ তালিকার শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে। বৈশ্বিক লিঙ্গসমতা সূচকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড।

তালিকায় শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে- সুইডেন, নিকারাগুয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, রুয়ান্ডা ও জার্মানি। আর সবচেয়ে নিচের অবস্থানে থাকা পাঁচ দেশ হচ্ছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (১৪৯), সিরিয়া (১৫০), পাকিস্তান (১৫১), ইরাক (১৫২) ও ইয়েমেন (১৫৩)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.