মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে ঢাকায় মোবাইল কোর্ট

0
26

মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে ঢাকায় মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। দুই-তিনদিনের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু হবে। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে যোগ দেন। এতে ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশলের’ খসড়া, ‘জাতীয় পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয়তাবিষয়ক জরুরি অবস্থায় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনার’ খসড়া এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে একটি চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

আলোচ্যসূচির বাইরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না-জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আজ ডিজাস্টার নিয়ে একটু আলোচনা হয়েছে। কোভিড-১৯ নিয়ে বলা হয়েছে, আরেকটু স্ট্রিক্ট ভিউতে যেতে হবে। (করোনা) একটু বেড়েও যাচ্ছে। সেজন্য আরেকটু প্রিকশান (সতর্কতা) নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ডিজাস্টারকে আরেকটু কম্প্রিহেনসিভ প্রেজেন্টেশনের জন্য ক্যাবিনেটে নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে।’ ঢাকায় করোনার বিষয়ে কোনো সেফটি মেজার্স দেখা যাচ্ছে না-এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অলরেডি আমরা গতকাল (সোমবার) বলে দিয়েছি যাতে ঢাকায়ও বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল কোর্ট বা ল এনফোর্সিং এজেন্সি (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) যাতে আরেকটু স্ট্রং (শক্ত অবস্থানে) হয়।’ কবে থেকে এটা দেখা যাবে-জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আশা করি আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে দেখা যাবে।’

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে জুলাইয়ের শেষদিকে বাসার বাইরে সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে সরকার। সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানাও করা হচ্ছে। সংক্রামক এই ভাইরাসে প্রতিদিনই মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এরপরও নানা অজুহাতে এখনও অনেকে মাস্ক ব্যবহার করছেন না।

জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের শতভাগ মানুষকে আর্থিক হিসাব প্রক্রিয়ায় আনতে ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য সঞ্চয় স্কিম করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও দারিদ্র্যবিমোচন, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবার আওতায় এনে তাদের জীবন ও জীবিকার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য এ কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মূল বিষয় হচ্ছে, ডিজিটাইজেশন ও ইনোভেশনের মাধ্যমে একটি টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি।

২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য এ কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০৪১ সালের যে পরিকল্পনা আছে, তার সঙ্গে সপ্তম পঞ্চমবার্ষিক পরিকল্পনা ও এসডিজির যোগসূত্র আছে। কৌশলপত্রে সাতটি উদ্দেশ্য ও ১২টি কৌশলগত অভীষ্ট আছে। এছাড়া আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ৬৫টি লক্ষ্যমাত্রা সমন্বয় করা হয়েছে। ২০২১-২০২৫ মেয়াদে জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৫ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা অর্থায়ন প্রাক্কলন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

বৈঠকে পারমাণবিক-তেজস্ক্রিয়তা দুর্যোগ মোকাবেলায় গাইডলাইন অনুমোদন দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেসহ পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয়তাবিষয়ক দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি গাইডলাইন করেছে সরকার। রূপপুর পাওয়ার প্ল্যান্টের সেফটি মেজারের জন্য পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) রিকোয়ারমেন্ট আছে যে, এই ধরনের পাওয়ার প্ল্যান্ট করার আগে সেফটি গাইডলাইন ও রেসপন্স প্ল্যান থাকতে হবে। না হলে তারা চালু করার সুযোগ দেবে না। সেজন্য আইএইএর গাইডলাইন-স্ট্রাকচার অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দেশের সব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত এবং সামঞ্জস্য রেখে ‘জাতীয় পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয়তাবিষয়ক জরুরি অবস্থায় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনা’ তৈরি করা হয়েছে। এতে পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয়তাবিষয়ক জরুরি অবস্থার ধরন, মানে কী ধরনের দুর্যোগ হতে পারে আমাদের আসলে সেই আইডিয়া (ধারণা) নেই। এই গাইডলাইন আমাদের সেই আইডিয়া দেবে। এটা মূলত বাংলাদেশে পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয়তাজনিত দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য যথাযথভাবে একটা ব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রিসভা তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা বাড়াতে চুক্তির খসড়া অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে জানিয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ চুক্তি না থাকায় আমাদের অনেকগুলো আইটেম তুরস্কে ঢুকতে পারছে না। তুরস্কে আমাদের রফতানি কমে গেছে। চুক্তি হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়বে। দু’দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ সুসংহত হবে। আর পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে একদেশ আরেক দেশকে তথ্য দিতে পারবে। দু’দেশেরই অর্থনীতি, জনস্বার্থ ও অন্যান্য স্বার্থ কার্যকর হবে। কারণ যেগুলো আমাদের প্রয়োজন আমরা তুরস্ক থেকে আনতে পারব। দু’দেশের আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রমেও একজন আরেকজনকে সহায়তা করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here