ভরিতে ১ হাজার টাকা ভ্যাট রেখে স্বর্ণ নীতিমালা হচ্ছে

0
30

অপরাজয়া প্রতিবেদক : প্রতি ভরি স্বর্ণ আমদানিতে ১ হাজার টাকা ভ্যাট আদায়ের বিধান রেখে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নীতিমালার খসড়াটি বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ইতোমধ্যে এ নীতিমালায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এখন চূড়ান্ত অনুমোদের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমে দেশে উৎপাদিত স্বর্ণের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জ্য রাখা হবে। পরে যখন স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে তখন ব্যবসায়ীদের বর্ধিত ধনের (উইনফল গেন) ওপর আরো ১ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হবে। এই ভ্যাট ব্যবসায়ীদের দুই কিস্তিতে দু’বছরে পরিশোধ করতে হবে। তারপর দেশে স্বর্ণ আমদানি বৈধ করা হবে এবং ব্যবসায়ীদের আমদানি লাইন্সেস দেওয়া হবে।

সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ বছরে ব্যবসায়ীরা কোনো স্বর্ণ আমদানি করেননি। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ থেকে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। এখন এ ব্যবসাকে নিয়মের আওতায় আনতে স্বর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে স্বর্ণ আমদানি করে ব্যবসায়ীরা তাতে মূল্য সংযোজন করে স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানি করতে পারবেন।

মন্ত্রীসভায় উত্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীর লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশে বেআইনিভাবে প্রচুর স্বর্ণ আসে। কিন্তু তা আবার ভারতে পাচার হয়ে যায়। তবে ২০১১ সালে স্বর্ণ আমদানির ওপর আউন্সে ৩ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণ কর হয়। আগে এ পরিমাণ ছিল ৭শ’ টাকা। এছাড়া ২০১৪-১৫ সালে প্রতি ২০০ গ্রামে ভ্যাট ধরা হতো ৩ হাজার টাকা, ফলে প্রতি ভরিতে ভ্যাট দিতে হতো মাত্র ১৫০ টাকা।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দেবে। তবে লাইসেন্স ফি কত হবে সেটা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারণ করবে। স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ে একটা রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। এটার বৈশিষ্ট্য হলো- বাংলাদেশ ব্যাংক ডিলার নিয়োগ করবে, যাদের মাধ্যমে স্বর্ণের বার আমদানি করা হবে। কারা আমদানি করতে পারবেন সেই বৈশিষ্ট্যও নির্ধারিত থাকবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বর্ণ আমদানিতে বন্ড সুবিধা থাকছে। আমদানি করে দেশের ভেতর অলঙ্কার বানিয়ে তা বিদেশে রপ্তানির পথ উন্মুক্ত করতে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের রপ্তানিকারকদের নগদ প্রণোদনা ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে। এছাড়া অলঙ্কার তৈরি করে যারা দেশের মানুষের কাছে বিক্রি করবে, তারাও আমদানি করা স্বর্ণ ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, ডিলার স্বর্ণের বার ছাড়া কোনো স্বর্ণালঙ্কার বা অন্য কোনোভাবে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবেন না। স্বর্ণের বার আমদানির সময় ডিলার বন্ড সুবিধা নিতে পারবেন। ডিলাররা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ওই বার বিক্রি করতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.