বিয়ের আগে ৩০ দিনের ডায়েট

0
30

জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত হলো বিয়ে। আর বিয়ের মূল আকর্ষণ কনে ও বর। বিয়ের দিন যেন সবচেয়ে সুন্দর দেখায়, এমন আকাঙ্ক্ষা থাকে বর-কনের। তবে তার জন্য প্রস্তুতি দরকার পড়ে আগেভাগে। অনেক ক্ষেত্রে হাতে সময় থাকে কম। তবে এক মাস সময় থাকলেও নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন। বিয়েকে কেন্দ্র করে পাত্র–পাত্রীর মানসিক চাপ বেড়ে যায়, যার প্রভাব ত্বকেও পড়ে। তাই এ সময় যতটুকু সম্ভব মানসিক চাপ কমিয়ে আনতে হবে। ত্বক ভালো রাখতে যথাসম্ভব তেলমুক্ত খাবার খেতে হবে। এতে চেহারায় ক্লান্তির ছাপ থাকবে না। পাশাপাশি বিয়ের আগে থেকেই সঠিক একটি খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েট চার্ট অনুসরণ করলে ভালো। এ সময় ফিট থাকা জরুরি। সবজি, ফলমূল বেশি করে খেতে হবে। এতে ত্বক সজীব দেখাবে।

সাধারণত ছেলেরা নিজেদের শরীর নিয়ে বেশি উদাসীন থাকেন। তবে বিয়ের আগে ছেলেদের একটা সঠিক খাদ্যাভাস ও জীবনযাপনে নিয়মতান্ত্রিক হওয়া জরুরি। তাই এমন খাবার তালিকায় রাখতে হবে, যা পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরন লেভেলকে প্রমোট করে, ফার্টিলিটি বাড়ায় ও সার্বিকভাবে দেহকে সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে। দেহ সুস্থ থাকলে যেমন মনও ভালো থাকে, তেমনি সুস্থ দেহ সঠিক এনার্জি এনে দেয়, যা বিয়ের সময়কার চাপ থেকে নিজেকে স্বাভাবিক রাখে।

অনেকেই শারীরিক গঠন নিয়ে খুবই চিন্তিত থাকেন। কারও চিন্তা শরীর কিছুটা মুটিয়ে গেছে, কেউ বড্ড রোগা লাগছে ভেবে চিন্তিত। বিয়ের আগের এই সময়টুকু সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে খুব সহজেই ফিট হতে পারেন। এর জন্য মাসখানেক আগে থেকে খাদ্যতালিকায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। যোগ করতে হবে কিছু খাবার, যা সহজপাচ্য ও সহজলভ্য।

বরের জন্য

ছেলেরা সাধারণত বিয়ের আগে কিছুটা মোটা হতে চান। তাই বিয়ের আগে এক মাসে খেতে পারেন কিছু ফলমূল ও শাকসবজি। এর মধ্যে কয়েকটি খাবারের গুণাগুণ থাকছে এখানে।

কলা: কলায় বিদ্যমান ভিটামিন-বি৬, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম শরীরের ক্লান্তি দূর করে ও শরীরকে করে তোলে শক্তিশালী ও সজীব।

রসুন: রসুনে রয়েছে এলিসিন নামক পদার্থ, যা রক্ত প্রবাহকে সঠিক রেখে শরীরকে সজীব করে তোলে।

পালংশাক: পালংশাকের ফলিক অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তনালির সক্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করে।

তরমুজ ও বিট
ফলের মধ্যে তরমুজ ও বিট দাম্পত্য জীবন সুখী করার জন্য জাদুকরি ভূমিকা রাখে। এতে বিদ্যমান লাইকোপিন ও বিটা-ক্যারোটিন রক্তনালির সুস্থতা বজায় রাখে এবং অল্প ক্যালরির হওয়ায় ওজন বাড়ার সম্ভাবনাও কম।

কনের ডায়েট

মেয়েরা বেশির ভাগ সময় বাড়তি ওজন নিয়ে চিন্তায় থাকেন। বিয়ের আগে তাই ওজন একটু কমানোর দিকে ঝুঁকতে দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে সঠিক খাদ্যতালিকা মেনে চলা উচিত। কম সময়ে ফিট হয়ে উঠতে এই খাবার তালিকা মেনে দেখতে পারেন।

সকাল: দুধ ছাড়া চা বা কফি, আটার রুটি ২টি, সেদ্ধ সবজি ১ বাটি, শসা ১ বাটি।

মধ্যদুপুর: একটি ডিমের সাদা অংশ ও টকজাতীয় ফল ১টি।

দুপুর: ৫০-৭০ গ্রাম চালের ভাত। মাছ বা মুরগির ঝোল এক বাটি। এক বাটি সবজি ও শাক, শসার সালাদ, এক বাটি ডাল এবং ২৫০ গ্রাম টক দই।

বিকেল: দুধ ছাড়া চা বা কফি, মুড়ি বা বিস্কুট দুটি বা এক বাটি মুজিলি।

রাত: এক বাটি সবুজ তরকারি, এক বাটি ডাল, এক টুকরা মাংস ও টক দই দিয়ে এক বাটি সালাদ।

ওজন কমানোর ডায়েট করার সময় চিনিযুক্ত খাবার, বেশি তেলে ভাজা–পোড়া খাবার, মিষ্টিজাতীয় পানীয়, ট্রান্স–ফ্যাটযুক্ত খাবার, প্রাণিজ ফ্যাট, রিফাইন করা বা চকচকে সাদা ময়দার তৈরি খাবার, মধু বা সিরাপজাতীয় খাবার, মিষ্টিজাতীয় শুকনা ফল এবং প্রক্রিয়াজাত করা স্ন্যাক ফুড, স্টার্চযুক্ত সবজি (যেমন আলু, ভুট্টা, মিষ্টি আলু) কখনোই খাবেন না।

এ ছাড়া বাইরের খাবার অবশ্যই পরিত্যাগ করে খাবারের তালিকায় সবজি ও ফল যথেষ্ট পরিমাণে রাখার দিকে নজর রাখতে হবে। সকালে শিঙারা-সমুচাজাতীয় খাবার খাওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে গ্রিন টি ও শুকনো ফল খাবেন। এ ছাড়া রাতে কার্বোহাইড্রেট–জাতীয় খাবার (ভাত-রুটি) বাদ দিয়ে সবজি ও প্রোটিন–জাতীয় খাবার (মাছ-মাংস-ডিম-দুধ) তালিকায় রাখুন। পর্যাপ্ত পানি বা তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন এবং অবশ্যই দিনে অন্তত ৩০ মিনিট রাখুন শরীরচর্চার জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.