বিপুলসংখ্যক নিবন্ধনহীন ফার্মেসি

0
19

ভেজাল, মানহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জামের প্রধান জোগানদাতা দেশের বিপুলসংখ্যক নিবন্ধনহীন ফার্মেসি, এ অভিযোগ বেশ পুরনো। কাজেই মানুষ আশা করেছিল, এসব ফার্মেসি বন্ধ করা হবে এবং নতুন করে এ ধরনের দোকান গজিয়ে উঠতে দেবে না। কিন্তু বাস্তবতা হল, শহরের অলিগলিতে নিবন্ধনহীন ফার্মেসি জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সারা দেশে প্রায় দেড় লাখ ওষুধের দোকান চলছে লাইসেন্স ছাড়াই।

শুধু তা-ই নয়, দেশে হাজার হাজার ওষুধের দোকান নিবন্ধনহীন। করোনা মহামারীর সময় স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন ওষুধের চাহিদা বাড়ায় রাজধানীসহ সারা দেশে নিবন্ধনহীন ওষুধের দোকানের সংখা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি আরও বেশি উদ্বেগজনক। বস্তুত যথাযথ তদারকি না থাকায় দেশব্যাপী নকল, ভেজাল, মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির ঘটনা বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে নিবন্ধিত ওষুধের দোকানের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। এর মধ্যে গত দুই বছরে নতুন নিবন্ধন পেয়েছে ৩২ হাজারেরও বেশি ওষুধের দোকান। এ সময়ে আরও চার শতাধিক মডেল ফার্মেসির অনুমোদন দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে নিবন্ধন ছাড়া ওষুধের দোকানের সংখ্যা কত, এর সঠিক কোনো হিসাব নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। সাধারণ মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে নিকটস্থ ফার্মেসি থেকে ওষুধ ক্রয় করে থাকেন। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেকে ফার্মেসির লোকদের পরামর্শে ওষুধ ক্রয় করেন। এ সুযোগে কোনো কোনো ফার্মেসি কর্তৃপক্ষ ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করে থাকে। রাজধানীর তুলনায় রাজধানীর বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফার্মেসিগুলোয় এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। এতে মানুষ প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা বেড়ে যায়, তা সহজেই অনুমেয়।

সারা দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে বেশি মুনাফা করার চেষ্টা করে, এটি নতুন কোনো তথ্য নয়। কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানার পরও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করছে কেন? ওষুধের ব্যবসা অন্য দশ রকম ব্যবসার মতো নয়। অন্য ব্যবসার মতো ওষুধের ব্যবসার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষ যদি চোখ বুজে থাকে, তাহলে জনস্বাস্থ্য খাতে অপূরণীয় ক্ষতি হবে, তা বলাই বাহুল্য। রাতারাতি দেশে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়। ফলে এসব মানুষের ফার্মেসির লোকদের পরামর্শে ওষুধ কেনার প্রবণতা শিগগিরই কাটবে বলে মনে হয় না। এ অবস্থায় কোনো ব্যক্তি ফার্মেসিতে গিয়ে যেন প্রতারণার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের ফলে দেশের সব ফার্মেসি বা ওষুধের দোকান শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে, এটাই প্রত্যাশা। স্বাস্থ্য খাতে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা চলতে দেয়া যায় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here