নওগাঁয় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড, বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

বিজ্ঞাপন

উত্তরের হিমেল বাতাস বয়ে যাওয়ায় নওগাঁয় একদিনের ব্যবধানে আবারও সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯ টায় জেলার বদলগাছী আবহাওয়া অফিসে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সন্ধ্যা ও ভোরে ঘন কুয়াশায় যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।

এদিকে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে ১০ বেডের পরিবর্তে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ। ফলে ঠাণ্ডায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে একই বেডে ২-৩ জন করে থাকতে হচ্ছে।

জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। যা গত তিনদিনের চেয়ে নওগাঁয় বেশ কম। তবে, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলেছে। সন্ধ্যা থেকে রাতভর কুয়াশা আর সকালে সূর্য ওঠার কারণে কয়েকদিন ধরেই দিন ও রাতের তাপমাত্রার ওঠানামা করছে।

বিজ্ঞাপন

আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষকেরা জানান, সন্ধ্যা থেকে রাতভর হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কারণে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে।

নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া অফিসের টেলিপ্রিন্ট অপারেটর রিপন আহম্মেদ বলেন, সকাল ৯ টায় নওগাঁয় দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবারও নওগাঁয় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

শীতের দাপট বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। সময়মত কাজে যেতে পারছেন না তারা। সন্ধ্যা ও ভোরে ঘন কুয়াশায় যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। এতে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপরদিকে নওগাঁয় সদর হাসপাতালসহ জেলার ১১ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ১০ বেডের পরিবর্তে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ। ফলে ঠাণ্ডায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে একই বেডে ২-৩ জন করে থাকতে হচ্ছে স্বজনদের। ঠাণ্ডায় আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালের নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তারা।

নওগাঁ শহরের রিকশাচালক আবু বক্কর, মিনহাজ রহমান, শ্রমিক বেলাল উদ্দিন জানান, উত্তরাঞ্চালের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্য প্রবাহে নওগাঁয় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। দুপুরের দিকে একটু সূর্যের দেখা মিললেও সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের ঠাণ্ডায় তাদের মতো খেটে মানুষরা কাহিল হয়ে পরেছেন। এর পাশাপাশি বৃদ্ধ ও শিশুরা কাহিল হয়ে পড়েছেন।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ জানান, নওগাঁর ১১ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা কম থাকায় রোগীদের সমস্যা হলেও চিকিৎসার কোন সমস্যা নেই বলে।

Advertisement