দিনাজপুর তেঁতুলিয়া ও নাগেশ্বরীতে তীব্র শীত

0
57

দিনাজপুর, তেঁতুলিয়া, বদরগঞ্জ ছাড়াও কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীসহ আশপাশের বিভিন্ন জনপদে জেঁকে বসেছে শীত। দেশের সর্ব-উত্তরের উপজেলা তুেঁতলিয়ায় গতকাল সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বদরগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দিনাজপুরে গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিনাজপুরে শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার এই তাপমাত্রা প্রায় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে এসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের সর্ব-উত্তরের উপজেলা পঞ্চগড়ের তুেঁতলিয়ায় শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বদরগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তিনি জানান, হঠাত্ করেই দেশের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হিমালয়ের হিমশীতল বায়ুর কারণে এই তাপমাত্রা কমেছে। আগামী কয়েক দিনে আরো তাপমাত্রা কমবে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহ মো. ইসমাইল হোসেন জানান, আবহাওয়ার এই অবস্থায় শিশু ও বয়স্কদের সর্দি, কাশি ও শ্বাসজনিত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এদিকে শীতের দাপটে দিনাজপুর শহরের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম ইত্তেফাককে জানান, ইতিমধ্যেই দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় ৪৬০ পিস করে শীতবস্ত্র বিতরণ হয়েছে। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আরো বিপুলসংখ্যক শীতবস্ত্র পাঠানোর জন্য ফ্যাক্স বার্তা প্রেরণ করেছেন তিনি। এদিকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতেও বইছে হিমেল হাওয়া। হিমালয়ের পাদদেশ ছোঁয়া হিমেল হাওয়ায় জড়সড়ো হয়ে আছে নাগেশ্বরীর মানুষ। বামনডাঙ্গা সেনপাড়া গ্রামের শতবর্ষী পাইনানী বালা, বাহেজ আলী, অভয় সেন (৮০), হাসনাবাদ এলাকার হাজেরা বেওয়া (৭০), সুখাতী গ্রামের কান্দরি বেওয়া (৮০), খুকু মনি বেওয়াসহ (৭৫) অনেকে বলেন, ‘কি ঠান্ডা বাহে। ঠান্ডা বাতাসে হাত, পাও গড গড করি কাঁপে। বুড়া হাড্ডিত জ্বার খুবই নাগবার নাগছে। পাতলা কাপড়োত ঠান্ডায় যাবার নাগছে না। কেমন করি বাইচমো কনতো। কাইয়ো একখান কম্বল দিলেন হয় বাহে।’ বয়স্করা খরকুটো জ্বালিয়ে উত্তাপ নিলেও শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মায়েরা। ঠান্ডাজনিত জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা।

কুড়িগ্রাম কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র বলেন, সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ অবস্থা আরো কয়েক দিন চলবে। আগামীতে তাপমাত্রা আরো কমবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here