ঘরে বসে চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধ বাড়ানোর খাদ্যাভ্যাস

0
61

এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়। এ সময় সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বর-গলাব্যথা হতেই পারে। এতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভেবে আতঙ্কিত হবেন না। সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বর বা গলাব্যথায় বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন এবং রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।

ঘরে বসে যেসব চিকিৎসা দিতে পারেন :

সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বর বা গলাব্যথা থাকলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ৫০০ মিলিগ্রাম/৬৬৫ মিলিগ্রাম তিন অথবা চার বেলা করে খেতে পারেন। সর্দি-কাশির জন্য অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় ফেক্সোফেনাডিন, ফেনিরামিন বা সেটরিজিন, সর্দি-কাশি-জ্বর বা গলাব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকলে মন্টিলুকাস্ট জাতীয় ওষুধ।

অবশ্য মন্টিলুকাস্ট সন্ধ্যা বেলায় খেতে পারলে ভালো, রাতেও খাওয়া যায়। ভিটামিন-সি বা অ্যাসকোরবিক অ্যাসিড জাতীয় ওষুধ কিংবা লেবু, লেবুর শরবত পান করতে পারেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, আর অ্যাসিডিটির জন্য ওমিপ্রাজল, ইসোমেপ্রাজল, পেন্টোপ্রাজল, র‌্যাবিপ্রাজল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন। সর্দির সমস্যায় নাক আটকে গেলে অক্সিমেটাজোলিন জাতীয় নাকের ড্রপ বড়দের ক্ষেত্রে : ০.০৫% আর ছোটদের ক্ষেত্রে : ০.০২৫% মাত্রায় দিনে ৩/৪ বার ব্যবহার করতে পারেন।

জ্বর মাপুন। জ্বরের মাত্রা ১০১-১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছলে প্যারাসিটামল সাপোজিটরি পায়ুপথে ব্যবহার করতে হবে। তবে প্যারাসিটামল সাপোজিটরিও বয়স ভেদে ১২৫, ২৫০ এবং ৫০০ মিলিগ্রাম মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনার পারিবারিক চিকিৎসক কিংবা টেলি-মেডিসিন সেন্টারের চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারেন।

হোম কোয়ারেন্টিনের দিনগুলোয় সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বর বা গলাব্যথা হলে বাড়ির কাছের ফার্মেসি থেকে উপরিউক্ত ওষুধ কিনে খেতে পারেন। তবে সর্দি-কাশি-উচ্চমাত্রার জ্বর বা গলাব্যথা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে পথ্য বা খাবার

১. লেবু বা লেবুর শরবত পান করতে পারেন। এ ছাড়া মাল্টা, কমলালেবু, আমলকী, আনারস, পেয়ারা ইত্যাদি ভিটামিন-সি জাতীয় তাজা ফলমূল খেতে পারেন; ২. ঘি ও মধু খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে; ৩. লবণ ছাড়া বাদাম খাওয়া যেতে পারে; ৪. টকদই, সবুজ শাকসবজি ও ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে; ৫. দিনের বেলায় ১৫-২০ মিনিট পর পর অল্প অল্প হলেও পানি পান করুন; ৬. ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রতিদিন এক-দুবার অল্প করে হলেও কাঁচা আদা খান; ৭. এক-দু কোয়া কাঁচা রসুন উপকারী;

৮. প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে সবুজ চা পান করুন। সবুজ চায়ে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের উপাদান থাকে, যা রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে; ৯. ভাইরাস কোষ ধ্বংস করতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দানা জাতীয় খাদ্য উপাদান (যেমন : সিমের বিচি, নানা পদের ডাল ইত্যাদি) রাখুন; ১০. ডায়াবেটিক রোগীরা যে কোনো রোগ-জীবাণু সংক্রমণে ঝুঁকিতে থাকেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ডায়াবেটিস চার্ট অনুযায়ী খাবার খান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.