করোনা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার

0
99

আসলে জীবন মানেই তো যুদ্ধ। মাঝে মাঝেই আমাদেরকে প্রতিকূলতার সম্মূখীন হতে হবে। এক্ষেত্রে ভীত না হয়ে এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। এসময় আমরা কে কতটা চাপ সহ্য করার ক্ষমতা রাখি, কতটা শান্ত আর অবিচল থেকে স্বীয় কর্তব্য সাধন করতে পারি, তার উপরেই নির্ভর করবে আমাদের সফলতা। পৃথিবীতে সে মানুষই সবচেয়ে সফল আর সুখী যে সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পারে এবং যেকোন পরিস্থিতিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে অথবা পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে। সুতরাং আসুন এই প্রতিকুল পরিস্থিতিতে সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার করি; এই সময়টাকে যতটা পারি ভারমুক্ত, সুন্দর, সৃষ্টিশীল আর উদ্দেশ্যপূর্ণ করি। এর জন্য আমরা এমন কিছু পন্থা গ্রহণ করি যা আমাদেরকে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টিকারী এই সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।

* আসুন আমরা কভিড-১৯-এ আক্রান্তদের প্রতি সহানুভুতিশীল হই।
* সুস্থ হওয়ার পর তারা যেন কোন ক্রমেই সামাজিক ভাবে বয়কট এর শিকার না হয়, আসুন সেদিকে দৃষ্টি রাখি।
* কভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যারা জয়ী হয়েছেন এমন সাহসী লোকদের বিষয়ে আসুন জানার চেষ্টা করি। এদের অভিজ্ঞতা আমাদেরকে সাহস যোগাবে।
* যারা স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন আসুন সেই সব বীরদেরকে সম্মান দেখাই, প্রশংসা করি, উৎসাহিত করি।
* যতটা সম্ভব কভিড-১৯ এর বিষয়ে কম দেখি, কম শুনি, কম পড়ি। কারণ এতে আমরা আরও বেশী আতঙ্কিত হতে পারি। কেবল মাত্র বিশ্বস্ত সুত্র থেকে তথ্য অনুসন্ধান করি; । শুধুমাত্র সংবাদ সমূহের আপডেট, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে এক বা দুবার দেখি। আমরা অহেতুক গুজবে কান দেব না, গুজব ছড়াব না; আতঙ্কিত হব না; আতঙ্ক ছড়াব না।
* আসুন আমরা অতীত নিয়ে অযথা হায় হায় না করে আর ভবিষ্যৎকে নিয়ে অনাবশ্যক উৎকন্ঠিত না হয়ে বর্তমানকে নিয়ে ভাবি। বর্তমান,তা যতই কঠিন আর প্রতিকূল হোক না কেন, তাকে সঠিক আর সফল ভাবে ব্যবহার করার চিন্তা করি। যতটা পারি সুন্দরভাবে বাঁচার চেষ্টা করি। এতে আমাদের মানসিক চাপ অনেকটাই কমবে।
* আমাদের সকলের এ মুহুর্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল এই দুঃসময়ে আমাদের পারিবারিক চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তাগুলো নিয়ে চিন্তা করা এবং এসব কিভাবে পুরণ করা যায় তার যৌক্তিক, বাস্তবভিত্তিক এবং কম চাপ যুক্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ করা।
* আসুন আমরা নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন,সাহসের সাথে সেসব কাজে নিয়োজিত থাকি।প্রতিবেশী,বন্ধু-বান্ধব,আত্মীয়-স্বজনসহ অন্যদের সাথে যোগাযোগ করি, তাদের খোজ খবর নেই, । এতে করে আমাদের একাকিত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ভাব অনেকটাই দুর হবে।
* আসুন আমরা নুতন করে আমাদের দৈনন্দিন কাজের সমন্বয় সাধন করি। আমরা ব্যক্তিগত, পেশাগত, পারিবারিক, সামাজিক দায়িত্বগুলো এই নুতন পরিস্থিতিতে কিভাবে পালন করব, তার জন্য একটা পরিকল্পনা মাফিক দৈনন্দিন কর্মসূচী তৈরি করি। প্রথমেই আমরা আমাদের শরীরটাকে ঠিক রাখার চেষ্টা করি। একটা নির্দিষ্ট সময়ে হালকা ব্যায়াম করি।, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করি, নেশা মুক্ত থাকি । বিশ্রাম এবং ঘুমের দিকে খেয়াল রাখি। মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য প্রতিদিন যথানিয়মে প্রার্থনা করি।

আসুন আত্মবিশ্বাসী হই, একটু অন্তর্মুখী হই। নিজেকে জানার চেষ্টা করি। একটা সময় বেড় করে ধ্যান/যোগাভ্যাস করি । কারণ ধ্যান হল আমাদের এই অস্থির জীবনে এক শান্তির বিশ্রাম। আসুন এখন পরিবারকে সময় দিয়ে সময় কাটাই। পারিবারিক কাজে সক্রিয়অংশ গ্রহণ করি। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের সকল সদস্য মিলে খোসগল্প করি, হাসি তামাসা করি।

তারপরও হয়তো বিরক্তি আসবে। একঘেয়েমি কাটার জন্য আসুন মাঝেমাঝে গল্প-উপন্যাস, কবিতা পড়ি, নাটক দেখি, গান শুনি;একঘেয়েমি দুর করার একটা ভাল উপায় হলো কাজের মধ্যে বৈচিত্র আনা ।

আমাদের সন্তানদের এখন স্কুল বন্ধ। তারাও এখন ঘরবন্দি। তারাও এক ঘেয়েমিতে ভুগছে। সুতরাং তাদেরকে বন্ধুরমত সাহচর্য দেওয়া দরকার। আসুন তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের একটা দৈনিক রুটিন তৈরি করে দেই। রুটিনের মধ্যে যেন, পড়াশুনা, খেলাধুলা, টিভি দেখা, গান শেখা, ছবি আঁকা,প্রার্থনা করা-সবকিছুই থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here