অক্সফোর্ডের টিকা ৭০ শতাংশ কার্যকর

0
60

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনার টিকা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। মানুষের ওপর তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শেষে সোমবার এ টিকার কার্যকারিতার তথ্য প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। এই টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে ইতোমধ্যে ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। এদিকে ডিসেম্বরেই টিকা দিতে শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য। খবর বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছে, তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে এ টিকার দুই ধরনের ডোজের তথ্য বিশ্লেষণে একটিতে ৯০ শতাংশ এবং অন্যটিতে ৬২ শতাংশ কার্যকারিতা দেখা গেছে। অর্থাৎ, গড়ে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে এ টিকা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তবে একটি পূর্ণ ডোজের পর আরও অর্ধেক ডোজ টিকা দিলে তা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তারা জানায়, বিভিন্ন বয়স শ্রেণি, এমনকি বয়স্কদেরও যে এই টিকা করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, পরীক্ষায় তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর আগে মার্কিন কোম্পানি ফাইজার ও মডার্না তাদের তৈরি টিকা ৯৫ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে বলে দাবি করে। তবে ওই দুই টিকার চেয়ে অক্সফোর্ডের টিকার দাম বেশ কম। আর এর সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও জটিলতা কম। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট বলেন, টিকার সুরক্ষার এই ঘোষণার মাধ্যমে কোভিড-১৯-এর ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে আমরা আরও এগিয়ে গেলাম। এ টিকা ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এই ভয়াবহতা থেকে মুক্তির সন্ধান করতে পারব।

সারাহ গিলবার্ট এ টিকা তৈরিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সারাহ বলেন, আমরা নিয়মিতভাবে টিকা সম্পর্কে টিকা নিয়ন্ত্রকদের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করে যাব। এই বহুজাতীয় প্রচেষ্টায় গোটা বিশ্ব উপকার লাভ করবে।

অক্সফোর্ডের এ টিকার ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। অর্ধেক স্বেচ্ছাসেবক যুক্তরাজ্যের, বাকিরা ব্রাজিলের। এর মধ্যে ৩০ জন কোভিড-১৯ রোগীর ওপর টিকার দুই ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। আর ১০১ জন ভিন্ন টিকা পান।

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের পরিচালক ও ভ্যাকসিন পরীক্ষার প্রধান কর্মকর্তা অধ্যাপক অ্যান্ড্র– পোলার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের একটি কার্যকর টিকা রয়েছে, যা অনেকের জীবন বাঁচাতে পারে। আমরা দেখেছি, আমাদের একটি ডোজ প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যকর।

এদিকে বাংলাদেশ সময় রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ কোটি ৯০ লাখ ৯৭ হাজার ৬২২ জন। মারা গেছেন ১৩ লাখ ৯৫ হাজার ৫৭৪ জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ১ লাখ ৩ হাজার ৭৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৪ কোটি ৮ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৭৯ জন, মারা গেছেন ৭ হাজার ৪১৫ জন। বিশ্ব তালিকায় করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে শীর্ষে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট আক্রান্ত ১ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার ২২০ জন, মারা গেছেন ২ লাখ ৬২ হাজার ৭১১ জন।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতে মোট রোগী ৯১ লাখ ৪০ হাজার ৩৫৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৩ জনের। বিশ্বে তৃতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে মোট আক্রান্ত ৬০ লাখ ৭১ হাজার ৪০১ জন, মারা গেছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৭ জন। চতুর্থ স্থানে ফ্রান্সে করোনা রোগীর সংখ্যা ২১ লাখ ৪০ হাজার ২৫১ জন। দেশটিতে মারা গেছেন ৪৮ হাজার ৭৩২ জন। রাশিয়ায় করোনা রোগীর সংখ্যা ২১ লাখ ১৪ হাজার ৫২৯ জন। দেশটিতে মারা গেছেন ৩৬ হাজার ৫৪০ জন।

ডিসেম্বরেই টিকা দিতে শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য : যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন শুক্রবার বলেছে, তারা আগামী ১০ ডিসেম্বর টিকার অনুমোদন সংক্রান্ত একটি বৈঠকে বসবে। ধারণা করা হচ্ছে ওই বৈঠকেই করোনা টিকার অনুমোদন দেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আগেই ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকার অনুমোদন দিয়ে দিতে পারে যুক্তরাজ্য। এজন্য ১ ডিসেম্বরের মধ্যেই ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসকে (এনএইচএস) প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সরকারের একাধিক সূত্রের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সপ্তাহেই টিকার অনুমোদন মিলে যেতে পারে দেশটিতে। অন্যদিকে জার্মানিও আগামী মাসে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া শুরু করতে পারে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেন্স স্প্যান বলেছেন, এই বছরই ইউরোপে একটি টিকার অনুমোদন হবে বলে আমরা আশাবাদী। তিনি জার্মান সরকারকে টিকা দেয়ার প্রস্তুতি হিসেবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার কথা বলেছেন। দেশটি বিভিন্ন চুক্তি করে ৩০ কোটি ডোজের বেশি টিকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রেখেছে।

দরিদ্র দেশগুলোয় ২০০ কোটি টিকা দেবে ইউনিসেফ : বিশ্বনেতাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দরিদ্র দেশগুলোর করোনা টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রায় ২০০ কোটি ডোজ বিতরণ করবে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভ্যাকসিন বহনের জন্য তারা এয়ারলাইন্স ও মালামাল বহনকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করোনা ভ্যাকসিন বণ্টন পরিকল্পনা কোভ্যাক্স-এর অংশ হিসেবে ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জ বিতরণ নিয়ে কাজ করছে ইউনিসেফ। দরিদ্র দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বুরুন্ডি, আফগানিস্তান, ইয়েমেনসহ অন্যান্য দেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here